রাজধানীর শেরে বাংলা থানায় “প্রহসনের নির্বাচন” পরিচালনার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। আজ সোমবার (২৩ জুন) ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান তার বিরুদ্ধে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এই মামলাটি দায়ের করা হয় রাজধানীর শেরে বাংলা থানায়। মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, কে এম নুরুল হুদা তার দায়িত্বকালীন সময়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অন্যায় প্রভাব খাটিয়েছেন এবং সাধারণ ভোটারদের মতপ্রকাশের অধিকার হরণ করে প্রহসনের নির্বাচন সংঘটিত করেছেন।
অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের পরিবর্তে তিনি ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর অনুগত থেকে নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করেছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ মোট ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
রিমান্ড শুনানিতে নুরুল হুদার আইনজীবী আদালতকে বলেন,
“সুষ্ঠু নির্বাচনের দায়িত্ব কেবল সিইসির নয়। রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি তারা সহযোগিতা না করে, তাহলে কোনো সিইসি এককভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারেন না।”
তবে বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান প্রশ্ন করেন,
“আপনি দায়িত্বে থেকে কি কোনো রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন?”
এই প্রশ্নের উত্তরে সাবেক সিইসি কে এম নুরুল হুদা নিশ্চুপ থাকেন, যা আদালতে উপস্থিত অনেকের মধ্যেই নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক শামসুজ্জোহা সরকার এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নুরুল হুদার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে, রবিবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরায় স্থানীয় জনতা সিইসি নুরুল হুদাকে চিহ্নিত করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখায় এবং মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরে রিমান্ডের আবেদন করে।
একই মামলায় গ্রেফতারকৃত সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনের জামিন আবেদনও একই আদালত নামঞ্জুর করেছেন। তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এ প্রসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন,
“তুহিনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর হয়ে ভোটের দিন সন্ত্রাস ও অনিয়মে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।”
এ মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে,
“২০১৮ সালের নির্বাচনসহ বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচন ছিল ভোট ডাকাতি, কারচুপি ও প্রশাসনের অপব্যবহারের উদাহরণ। আমরা এসবের বিচার চাই।”
সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আওয়ামী লীগের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন,
“নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সাবেক সিইসির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও রিমান্ড কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধ না হয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হওয়া উচিত।”
বর্তমান নির্বাচন কমিশন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে কমিশন সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“সাবেক কমিশনারের বিরুদ্ধে গ্রেফতার ও রিমান্ড ইস্যু কমিশনের মর্যাদা ও স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কমিশনের ভাবমূর্তি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করেছে। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও তার কর্মকাণ্ড যদি অন্যায় ও পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে বিচার এড়ানো উচিত নয়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই মামলার রায় ও তদন্তের ফলাফল আগামী জাতীয় নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক গোলাম মুর্তজা বলেন,
“যদি এ মামলার মাধ্যমে সত্যিকার বিচার হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দায়িত্বে থাকা কমিশনারদের জন্য এটি একটি সতর্ক বার্তা হবে। অন্যথায়, গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমবে।”
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |