| বঙ্গাব্দ

বরগুনায় ডেঙ্গুর উচ্চ সংক্রমণ: একদিনে সর্বোচ্চ ৩৯৪ জন আক্রান্ত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-06-2025 ইং
  • 4608421 বার পঠিত
বরগুনায় ডেঙ্গুর উচ্চ সংক্রমণ: একদিনে সর্বোচ্চ ৩৯৪ জন আক্রান্ত
ছবির ক্যাপশন: একদিনে সর্বোচ্চ ৩৯৪ জন আক্রান্ত

বরগুনায় ডেঙ্গুর উদ্বেগজনক বিস্তার: একদিনে ৩৯৪ জন আক্রান্ত, বরগুনা জেলায় সর্বাধিক

ঢাকা, ২৪ জুন ২০২৫:
দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯৪ জন, যা চলতি বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই ঢাকার বাইরে, বিশেষ করে বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলায়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৭ জন রোগী। এর মধ্যে শুধু বরগুনা জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ জন, যা মোট আক্রান্তের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরগুনার চিত্রটি ইঙ্গিত দেয় যে, সেখানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

বরগুনায় বাড়ছে এডিস মশার প্রজনন

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) পরিচালিত সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, বরগুনা পৌরসভার ৩১ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের অবস্থা আরও ভয়াবহ—সেখানে ৭৬ শতাংশ বাড়িতে লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। পৌর শহরের দুটি ওয়ার্ডে প্রতি ১০টি বাড়ির মধ্যে ৮টিতে লার্ভা পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর ঝুঁকি নির্ধারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গাইডলাইন অনুযায়ী ২০ শতাংশের বেশি লার্ভা সংক্রমণের মাত্রাকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বিবেচনা করা হয়। সে অনুযায়ী বরগুনার সংক্রমণ হার WHO নির্ধারিত সীমার আট গুণ বেশি।

পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান অবস্থা

বরগুনা জেলায় ডেঙ্গু সংক্রমণ নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালেও জেলাটিতে ২,৪৩৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন, যা বরিশাল বিভাগের সর্বোচ্চ এবং ঢাকার বাইরে দেশের মধ্যে চতুর্থ বৃহত্তম সংক্রমণ এলাকা ছিল। চলতি বছরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সার্বিক দেশে পরিস্থিতি

জুন মাসের শুরু থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪,১৯৯ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১,০৮০ জন রোগী। এর মধ্যে ঢাকায় ৩১০ জন এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগে ৭৭০ জন ভর্তি রয়েছেন।

বিভাগওয়ারি হিসেবে চট্টগ্রামে (সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে) ৫৮ জন, ঢাকায় (সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে) ৩৫ জন, খুলনায় ৮ জন, রাজশাহীতে ৪৪ জন এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে যথাক্রমে ৪২ ও ৫০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

মৃত্যুর পরিসংখ্যান

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৩৪ জন। এর মধ্যে নারী ও পুরুষ সমান সংখ্যক—প্রত্যেকে ১৭ জন করে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮,৫৪৪ জন।

তুলনামূলকভাবে, ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১,০১,২১৪ জন। সে বছর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন ১,০০,০৪০ জন রোগী।

করণীয় ও সুপারিশ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু শহর নয়, গ্রামীণ এলাকাতেও প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। বরগুনার পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র পৌর এলাকাকে কেন্দ্র করে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলে সংক্রমণ থামানো সম্ভব নয়। জরুরি ভিত্তিতে বরগুনাসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত ফগিং, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন কার্যক্রম জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency