বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত দম্পতিদের মধ্যে শাহরুখ খান ও গৌরী খান অন্যতম। তাদের প্রেম, বিয়ে এবং পারিবারিক জীবন নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে দেশ-বিদেশে। ধর্মীয় ভিন্নতা সত্ত্বেও তারা যে সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ, তা বারবার প্রমাণিত। সম্প্রতি তাদের বড় ছেলে আরিয়ান খানের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়টি বহু আগেই স্পষ্ট করেছিলেন গৌরী নিজেই—একটি সাক্ষাৎকারে।
একবার ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে গৌরী খান বলেন,
“আরিয়ান আসলে শাহরুখকে অনুসরণ করে। ও নিজেকে মুসলিমই বলে। একবার যখন বলেছিল ‘আমি মুসলিম’, তখন আমার মা খুব অবাক হয়েছিলেন। তবে মা সেটা সহজভাবে নিয়েছিলেন, কিছু মনে করেননি।”
এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে, আরিয়ান খান ধর্মীয়ভাবে মুসলিম পরিচয়কে গ্রহণ করেছেন, যদিও তিনি বেড়ে উঠেছেন একটি মিশ্র ধর্মবিশ্বাসের পরিবারে।
মুসলিম ধর্মাবলম্বী। ইসলামের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও আস্থার কথা বহুবার বলেছেন।
পবিত্র কোরআনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং রোজা পালন করেন।
হিন্দু ধর্মাবলম্বী। পূজা-পার্বণে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
নিজের বিশ্বাস বজায় রেখেছেন, তবে স্বামীর ধর্মকেও সমানভাবে শ্রদ্ধা জানান।
“আমি শাহরুখের ধর্মকে সম্মান করি, কিন্তু তাই বলে নিজের ধর্ম ত্যাগ করিনি। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেকের নিজস্ব বিশ্বাস থাকা উচিত এবং অন্যের ধর্মকেও শ্রদ্ধা জানানো প্রয়োজন।”
এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, এই পরিবারে ধর্ম নয়, বিশ্বাস ও ভালোবাসাই মুখ্য।
ভারতে ধর্মীয় ভিন্নতার কারণে বহু পরিবার সামাজিক বাধার সম্মুখীন হয়।
শাহরুখ-গৌরীর সম্পর্ক একটি দৃষ্টান্ত—যেখানে ধর্ম আলাদা হলেও পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থান সম্ভব।
তাদের সন্তানরাও বেড়ে উঠছে এই সহনশীলতা ও মুক্ত চিন্তার পরিবেশে।
বিশেষজ্ঞ সমাজবিজ্ঞানী ড. জয়া সেনগুপ্ত বলেন,
“এই ধরনের পরিবার আমাদের শেখায়—ধর্মীয় পরিচয় একান্তই ব্যক্তিগত। ভালোবাসা, মূল্যবোধ ও পারিবারিক বন্ধন—এই তিনেই সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত।”
আরিয়ান খান নিজেকে মুসলিম পরিচয় দিলেও তার জীবনচর্যা হতে পারে ধর্মনিরপেক্ষ।
নতুন প্রজন্মের কাছে ধর্মীয় সহাবস্থান এক বাস্তবতা—যেখানে ধর্ম নয়, মানুষ হিসেবে পরিচয় বড় হয়ে উঠছে।
শাহরুখ-গৌরী পরিবার হয়তো এমন সহনশীল সমাজের প্রতীক, যা বর্তমান ভারতীয় উপমহাদেশে খুবই প্রয়োজন।
শাহরুখ খান ও গৌরী খানের দাম্পত্য ও তাদের সন্তানের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আলোচনার মূল শিক্ষা—ভালোবাসা, সম্মান ও পারস্পরিক সহনশীলতা ধর্মীয় বিভাজনকে অতিক্রম করতে পারে। আরিয়ান খান কোন ধর্মের, তা তার বিশ্বাসের বিষয়; কিন্তু এই পরিবার যে ধর্মীয় সহাবস্থানের মডেল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
১. আরিয়ান খান কোন ধর্মের অনুসারী?
➤ তিনি নিজেকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
২. শাহরুখ ও গৌরীর ধর্ম ভিন্ন হলেও কীভাবে তাদের সংসার টিকেছে?
➤ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বাধীনতা বজায় রেখে, একে অপরের ধর্মকে সম্মান করে।
৩. গৌরী কি ধর্ম পরিবর্তন করেছেন?
➤ না, তিনি নিজ ধর্ম (হিন্দু) বজায় রেখেছেন।
৪. সন্তানরা কোন ধর্মে বড় হচ্ছে?
➤ আরিয়ান খান মুসলিম পরিচয় নিয়েছেন; বাকিদের ক্ষেত্রেও একই ধারা অনুসরণ হতে পারে, তবে বিষয়টি পারিবারিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
৫. এই ধরনের সম্পর্ক সামাজিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য?
➤ ভারতের মতো সমাজে ধীরে ধীরে ধর্মীয় সহাবস্থান বাড়ছে, কিন্তু এখনো কিছু জায়গায় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |