২০২৫ সালের ঈদুল আজহার ১০ দিনের ছুটিতে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (পঙ্গু হাসপাতাল) যেন রূপ নিয়েছিল একটি মিনি ট্রমা সেন্টারে।
হাসপাতালটির জরুরি বিভাগ থেকে নিবন্ধন খাতার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩৬.৮৪ শতাংশ আহত হয়েছেন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায়।
এই তথ্য সামনে এনে দিয়েছে এক ভয়াবহ বাস্তবতা—বেপরোয়া, অনিয়ন্ত্রিত ও অদক্ষ চালকদের হাতে প্রাণনাশের ঝুঁকিতে রয়েছেন দেশের সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
| বাহনের ধরন | আহত রোগীর সংখ্যা | শতাংশ |
|---|---|---|
| ব্যাটারি/সিএনজি রিকশা | ২৩৮ জন | ৩৬.৮৪% |
| বাস, ট্রাক, মাইক্রো | ১৫৭ জন | ২৪.৩০% |
| মোটরসাইকেল | ১২৭ জন | ১৯.৬৫% |
| অনুল্লিখিত / অন্যান্য | ~১২৪ জন | ~১৯.২১% |
| মোট | ৬৪৬ জন (ভর্তি) | ১০০% |
👉 একাধিক অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়েছে: ৫০৮ জনের
👉 বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন: ১৫১ জন
“ব্যাটারিচালিত রিকশা এখন প্রধান দুর্ঘটনার বাহন হয়ে উঠেছে। যারা আহত হচ্ছেন, তাদের অনেকেই স্থায়ী পঙ্গুত্বের দিকে চলে যাচ্ছেন। একাধিক অস্ত্রোপচারে সুস্থ হতে হচ্ছে।”
“মূল সড়কে ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাই এখন সবচেয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”
১. বেপরোয়া মোটরসাইকেল
২. ব্যাটারিচালিত রিকশা
৩. লাইসেন্সবিহীন চালক
৪. অবৈধ পার্কিং ও সড়কে রিকশা চলাচল
৫. সড়কে রাস্তার গর্ত ও অপরিকল্পিত মোড়
৬. ফিটনেসবিহীন গাড়ি
৭. দুর্ঘটনার পর দেরিতে উদ্ধার ব্যবস্থা
৮. যাত্রী-চাপ
৯. সড়ক পুলিশের অবহেলা
“ঈদের বিকেলে বোনের বাড়িতে যাচ্ছিলাম। রাজশাহী মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে পড়ে মারাত্মকভাবে পায়ে আঘাত পাই।”
“একটি ট্রাক আমাদের অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। দুই যাত্রীর পা ভেঙে যায়, আমার পা থেঁতলে গেছে। চিকিৎসকরা চেষ্টা করছেন amputate না করতে।”
ব্যাটারিচালিত রিকশার কোনও জাতীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা নেই
চালকদের লাইসেন্স নেই, প্রশিক্ষণও অপ্রতুল
মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ হলেও কার্যত অনিয়ন্ত্রিত
সড়কে সার্ভিস লেন না থাকায় যাত্রী ও হালকা যানবাহনের সংঘর্ষ বেড়েছে
ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলে সুনির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক নিয়ম
ট্রাফিক পুলিশের সক্রিয়তা ও জিরো টলারেন্স অভিযান
ঈদ ও বড় ছুটিতে রোড অ্যাকশন প্ল্যান
জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন (সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ ও পুলিশ যৌথভাবে)
ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্সিং ও রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক
সার্ভিস লেন ও পৃথক রিকশা করিডোর পরিকল্পনা করা
দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য ট্রমা সহায়তা তহবিল
প্রযুক্তির উন্নয়নে ব্যাটারিচালিত যান সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হলেও, তার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার আজ শহর ও মহাসড়ককে পরিণত করেছে মরণফাঁদে।
ঈদে আনন্দে মেতে উঠতে গিয়ে অনেক পরিবার এখন হাসপাতালে।
এই দুর্ঘটনাগুলো কেবল ব্যক্তিগত নয়—এটা রাষ্ট্রের অব্যবস্থাপনারও প্রতিচ্ছবি।
১. এবারের ঈদে পঙ্গু হাসপাতালে কতজন ভর্তি হয়েছেন?
→ মোট ৬৪৬ জন ভর্তি হয়েছেন, আর ২ হাজার ৫৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
২. সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে কোন বাহনে?
→ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা।
৩. মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান কী বলছে?
→ ১৩৪টি দুর্ঘটনায় ১৪৭ জন নিহত, ৩৫.৩৫% দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের সম্পৃক্ততা।
৪. সরকার এখন পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
→ কিছুদিনের জন্য অভিযান চালানো হয়, তবে সুনির্দিষ্ট স্থায়ী নীতিমালা নেই।
৫. কী ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার?
→ সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ, ট্রাফিক বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একসাথে কাজ।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |