অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, নোবেল বিজয়ী, এবং সামাজিক ব্যবসার পথপ্রদর্শক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ ৮৪ বছরে পা রাখলেন।
শনিবার (২৮ জুন) তাঁর জন্মদিনে দেশজুড়ে বিভিন্ন মহল থেকে শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে এই কৃতি সন্তানকে।
১৯৪০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ড. ইউনূস।
তাঁর বাবা ছিলেন দুলা মিঞা সওদাগর এবং মা সুফিয়া খাতুন। স্ত্রী অধ্যাপক দিনা আফরোজ ও দুই মেয়েকে নিয়ে তাঁর ঘরোয়া জীবন।
ছোটবেলা থেকেই ছিলেন পড়াশোনায় অসাধারণ।
চট্টগ্রাম কলিজিয়েট স্কুল থেকে মেট্রিকে ১৬তম স্থান
চট্টগ্রাম কলেজে ইন্টারমিডিয়েট শেষে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক
১৯৬৫ সালে ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি
১৯৭১ সালে ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি
মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে গঠন করেন বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার।
বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য কর্মরত ছিলেন আমেরিকান নাগরিক সমাজের মধ্যেও।
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। এরপর মানুষের ক্ষুদ্রঋণ চাহিদা মেটাতে ১৯৭৬ সালে জোবরা গ্রামে চালু করেন গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্প।
১৯৮৩ সালে এটি পরিণত হয় পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানে
নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে অভিনব ভূমিকা
বিশ্বের ৪০টি দেশে অনুসরণ হচ্ছে এই মডেল
২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ড. ইউনূস ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক।
এরপর তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।
তাঁর ঝুলিতে রয়েছে—
World Food Prize
Presidential Medal of Freedom (USA)
Congressional Gold Medal (USA)
সহ বিশ্বের বহু দেশি-বিদেশি সম্মাননা
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের পটপরিবর্তনের পর দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে।
শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগ করলে,
৮ আগস্ট ২০২৪ সালে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।
তিনি এখন প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যার দায়িত্ব হলো একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।
ড. ইউনূস বারবার বলেছেন—
“আমরা ভুল পথে হাঁটছি। আমাদের প্রয়োজন একটি ন্যায্য ও টেকসই বিশ্ব গড়ার নতুন পথ। সেটা সামাজিক ব্যবসা দিয়েই সম্ভব।”
তাঁর “তিন শূন্য তত্ত্ব”—
শূন্য দারিদ্র্য
শূন্য বেকারত্ব
শূন্য কার্বন নিঃসরণ—
বিশ্বব্যাপী সামাজিক উদ্যোক্তাদের কাছে এখন এক অনুপ্রেরণা।
আজকের দিনে তিনি শুধু একজন নোবেল বিজয়ী নন, বরং একজন চিন্তাবিদ, সমাজসংস্কারক ও ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প পথপ্রদর্শক।
বাংলাদেশের গর্ব, এবং বিশ্বের অনুপ্রেরণা।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |