বৈরুত | ৭ জুলাই ২০২৫:
ইসরায়েলের হুমকি বা আন্তর্জাতিক চাপ হিজবুল্লাহকে অস্ত্র ফেলে দিতে বাধ্য করতে পারবে না—এমন ঘোষণা দিলেন গোষ্ঠীটির সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ নেতা নাঈম কাসেম।
আশুরা উপলক্ষে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হাজারো সমর্থকের সামনে টেলিভিশন ভাষণে কাসেম বলেন,
“আমরা কখনো আত্মসমর্পণ করবো না। আগ্রাসন বন্ধ না হলে, নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নই আসে না।”
এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক লেবানন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ ইস্যু নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার তাপ বাড়ছে।
২০২৪ সালের ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ ছিল এক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ।
হাসান নাসরাল্লাহের হত্যাকাণ্ডের পর, কাসেম হিজবুল্লাহর নেতৃত্বে আসেন।
এরপরই আন্তর্জাতিক চাপে এক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, যার মূল শর্ত ছিল:
| চুক্তি অনুযায়ী | বাস্তবতা |
|---|---|
| হিজবুল্লাহকে লিতানি নদীর উত্তরে সরে যেতে হবে | আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে |
| ইসরায়েলকে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে | এখনও ৫টি স্থানে সেনা মোতায়েন আছে |
“আমরা আমাদের অস্ত্র ছাড়বো না। এটি প্রতিরোধের প্রতীক।”
“প্রথমে দখলদার ইসরায়েল তাদের সেনা সরাক, আগ্রাসন থামাক।”
“আমরা জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী, তবে সেটা আগ্রাসন বন্ধের পর।”
তিনি বলেন, "যদি জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নিয়ে সমঝোতা করতে হয়, তাহলে আমাদের স্বাধীনতা ও মর্যাদার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।"
লেবাননের বর্তমান সরকার বলছে,
"রাষ্ট্রের বাইরে অস্ত্র থাকা গ্রহণযোগ্য নয়।"
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান,
“মার্কিন দূতের অনুরোধে আমরা হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণে একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করছি।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বলেছেন,
“আমরা লেবাননের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাই।”
তবে হিজবুল্লাহ সরাসরি ঘোষণা দিয়েছে:
“ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো স্বাভাবিক সম্পর্ক নয়—এটা বিশ্বাসঘাতকতা।”
এদিকে সিরিয়ার প্রতি ইসরায়েল একই আহ্বান জানালে, দামেস্ক জানিয়েছে,
“এখনো সময় হয়নি এই বিষয়ে কথা বলার।”
হিজবুল্লাহ বরাবরই ইরান-সমর্থিত একটি গোষ্ঠী।
তেহরান এই পরিস্থিতিকে “ধর্মীয় ও ভূরাজনৈতিক প্রতিরোধ যুদ্ধ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
আশুরার দিনে তাই হিজবুল্লাহর মিছিলে লেবানন, ফিলিস্তিন এবং ইরানের পতাকা একসঙ্গে দেখা গেছে।
বৈরুতের উপশহরে আয়োজিত আশুরার মিছিলে হাজারো মানুষ অংশ নেয়।
হিজবুল্লাহর পতাকা
নাসরাল্লাহর ছবি
ইসরায়েল-বিরোধী পোস্টার ও স্লোগান
এই উপস্থিতি শুধু ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট—"জনগণের একটি বড় অংশ এখনও প্রতিরোধে বিশ্বাসী"।
ইসরায়েল চায় নিরস্ত্রীকরণ, লেবানন চায় শান্তি, আর হিজবুল্লাহ চায় আত্মমর্যাদার প্রতিরক্ষা।
এই ত্রিমাত্রিক সংঘাতে কেউ অস্ত্র ছাড়ছে না, কেউ সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে—আর জনগণ রয়ে যাচ্ছে অনিশ্চয়তার মাঝে।
সুতরাং প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—শান্তি আসবে কূটনীতি দিয়ে, নাকি আরও এক ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পর?
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |