| বঙ্গাব্দ

হজ ফরজ হওয়ার পর বিলম্ব বা সামর্থ্যহীনতা: ইসলামী দৃষ্টিকোণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-07-2025 ইং
  • 4465016 বার পঠিত
হজ ফরজ হওয়ার পর বিলম্ব বা সামর্থ্যহীনতা: ইসলামী দৃষ্টিকোণ
ছবির ক্যাপশন: হজ ফরজ হওয়ার পর বিলম্ব বা সামর্থ্যহীনতা

হজ ফরজ হওয়ার পর সামর্থ্য হারিয়ে ফেলা: ইসলামী বিধান ও ইতিহাসের আলোকপাত

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশ্লেষণ প্রতিবেদন

প্রকাশকাল: ২০২৫ সাল

সূত্র: আলকাউসার ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার

প্রশ্নের প্রেক্ষাপট

একজন মুসলমানের ওপর হজ ফরজ হওয়ার পর, যদি তিনি তা আদায় না করেন এবং পরবর্তীতে তার আর্থিক সামর্থ্য লোপ পায়, তবে ইসলাম অনুযায়ী তার অবস্থান কী হবে? এই প্রশ্নটি কেবল সমসাময়িক নয়; ইসলামের ইতিহাসে যুগে যুগে এই প্রসঙ্গে আলেমদের ফতোয়া, নির্দেশনা এবং দায়িত্ববোধের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

ইসলামী বিধান

হজ ফরজ হওয়ার পর তা আদায় করার আগেই সম্পদ অন্য খাতে ব্যয় হয়ে গেলে অথবা হারিয়ে ফেললেও, ঐ ব্যক্তির যিম্মায় হজ আদায়ের দায়িত্ব থেকে যায়। কেননা, হজ একবার ফরজ হলে তা ব্যক্তির ওপর স্থায়ীভাবে বাধ্যতামূলক হয়ে যায়।

করণীয়:

  1. ব্যক্তি জীবদ্দশায় পুনরায় সেই সামর্থ্য ফিরে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করবে

  2. যদি সে মৃত্যুর আগপর্যন্ত সামর্থ্য ফিরে না পায়, তবে অসিয়ত করে যাবে, যাতে তার সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ থেকে বদলি হজ আদায় করা হয়

কোরআন ও হাদিসের দৃষ্টিভঙ্গি

وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا
“যার সামর্থ্য আছে, তার ওপর আল্লাহর জন্য কাবা ঘরের হজ করা ফরজ।”
(সুরা আলে ইমরান, আয়াত ৯৭)

এই আয়াতে ‘সামর্থ্য’ হল হজ ফরজ হওয়ার পূর্বশর্ত। কিন্তু একবার যখন সামর্থ্য থাকে ও হজ ফরজ হয়, তখন তা আদায় না করলে কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:

“যে ব্যক্তি হজের প্রয়োজনীয় সম্পদ ও যানবাহনের মালিক হওয়া সত্ত্বেও হজ আদায় না করে মারা যায়, সে ইচ্ছা করলে ইহুদি বা খ্রিস্টান অবস্থায় মরতে পারে।”
(তিরমিজি, হাদিস: ৮১২)


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (১৯৫০–২০২৫)

১৯৫০ সাল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে মুসলিম বিশ্বে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক বিপর্যয়, মহামারি, যুদ্ধ অথবা দারিদ্র্যের কারণে অনেকের পক্ষে হজ করা সম্ভব হয়নি।

  • ১৯৭৯ সালে মক্কায় গ্র্যান্ড মসজিদ দখলের ঘটনায় অনেক মুসলমান নির্ধারিত হজ সম্পন্ন করতে পারেননি

  • ২০২০–২০২১ সালে কোভিড-১৯ মহামারিতে হজ সীমিত হয়ে পড়ে, বহু মুসলমান হজে যেতে পারলেও আদায় করতে পারেননি

  • বাংলাদেশে ১৯৭১–৭৩, ১৯৯১–৯২ ও ২০০৮ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়েও বহু মুসলমানের পক্ষে হজ করা সম্ভব হয়নি

তবে এ সকল ঘটনাগুলোতে সামর্থ্য হারানো অজুহাত হিসেবে গণ্য নয় যদি একবার হজ ফরজ হয়ে যায়।


ইসলামী ইতিহাসের পন্ডিতদের মতামত

ইমাম নববী (রহ.):

“হজ যদি কারো ওপর ফরজ হয়, তবে তাকে অবহেলা করা যাবে না। বিলম্ব হলে সে গুনাহগার হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত হজ আদায় না করে।”

ইবনে কুদামা (রহ.):

“যদি কেউ হজ ফরজ হওয়ার পর মৃত্যুবরণ করে এবং হজ আদায় না করে, তবে তার জন্য বদলি হজ করানো ওয়াজিব হয়ে যায়।”


হজে বিলম্ব করার পরিণতি

হজ আদায়ের বিলম্ব শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ঈমান, আমানত ও ইসলামী নৈতিকতার একটি বড় প্রশ্ন।

ধর্মীয় দায়বদ্ধতা:

  • হজ ফরজ হওয়ার পর তা আদায়ে গড়িমসি গুনাহ হিসেবে বিবেচিত

  • সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ না করলে কাফের হিসেবে মৃত্যুবরণ করার আশঙ্কা হাদিসে বর্ণিত

  • হজ আদায় না করলে সেই মানুষ তার রুহানি ও আত্মিক পূর্ণতা থেকে বঞ্চিত হয়


উপসংহার

একবার হজ ফরজ হলে তা ব্যক্তির উপর স্থায়ীভাবে আবশ্যক হয়ে যায়, যতক্ষণ না তিনি তা আদায় করেন বা তার পক্ষ থেকে বদলি হজ আদায় করা হয়।
সামর্থ্য হারিয়ে ফেললেও ইসলামের বিধান অনুযায়ী হজ আদায়ের দায়িত্ব তার যিম্মাতেই রয়ে যায়। মৃত্যুর পূর্বে অসিয়ত করা জরুরি, এবং তার পরিবার ও উত্তরাধিকারীদের সেই দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হওয়া উচিত।


সূত্র:

  • আলকাউসার ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার

  • সুনান তিরমিজি

  • সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭

  • ইসলামী ফিকহ ও ইতিহাস সংকলন (মাওলানা ইসমাইল রেহমানী)

    প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency