যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ যৌথ সামরিক মহড়ার সফল সমাপ্তি: ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: মার্কিন দূতাবাস, ঢাকা
ঢাকা:
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণে যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার শার্ক’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২ আগস্ট) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। মহড়াটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারস্পরিক সমন্বয় এবং যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এবং বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী যৌথভাবে অংশ নেয় এই প্রশিক্ষণে, যেখানে অন্তর্ভুক্ত ছিল—
মেডিক্যাল প্রশিক্ষণ ও টহল অনুশীলন
লক্ষ্যভেদ অনুশীলন, ক্লোজ কোয়ার্টার্স কমব্যাট
সাঁতার ও ডুবসাঁতার কৌশল
সমন্বিত যৌথ পরিকল্পনা সেশন ও কৃত্রিম যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কৌশলগত প্রস্তুতি
দূতাবাসের দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, এই মহড়া যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ উভয় রাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি জ্যাকবসন বলেন,
"টাইগার শার্ক শুধু সামরিক মহড়া নয়— এটি আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতি ও অংশীদারিত্বের প্রতীক। নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ার পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।"
এই মহড়াকে সাধারণ সামরিক প্রশিক্ষণ হিসাবে দেখলে ভুল হবে। এটি ২০২০ সালের পর থেকেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মার্কিন কৌশলগত আগ্রহের অংশ, যেখানে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরকে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
২০১৫ সালের পর থেকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। ‘টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক’ ও ‘এক্সারসাইজ টেবিল টপ’ ইত্যাদি উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ক গতি পেয়েছে।
বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে প্রশংসনীয় অবদান রাখলেও, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিরতা এবং নির্বাচনকালীন দ্বিধা জোট গঠন প্রশ্নে বিভিন্ন পরাশক্তির দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে টাইগার শার্ক মহড়া স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে একটি নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে থাকতে চায়।
প্রতিষ্ঠিত: ১৯৪৭ সালে
কার্যক্রম: এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতা তদারকি
উদ্দেশ্য: আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমন
অংশীদার: ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, বাংলাদেশসহ ৩০+ দেশ
১৯৭১: বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম সামরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে
২০০৩: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি
২০২১: ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্ব পায়
২০২3–২৪: QUAD ও AUKUS জোট কার্যক্রমে বাংলাদেশকে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসাবে গুরুত্ব দেওয়া শুরু হয়
২০২৫: টাইগার শার্ক মহড়ার মাধ্যমে এক যুগান্তকারী সামরিক সমন্বয় সম্পন্ন হলো
মার্কিন দূতাবাস, ঢাকা (প্রেস বিজ্ঞপ্তি, ২ আগস্ট ২০২৫)
The Diplomat (2024), South Asia Defense Review
যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড ওয়েবসাইট
প্রথম আলো (বিশ্লেষণ, এপ্রিল ২০২৫)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |