| বঙ্গাব্দ

একটি ছবি যেভাবে কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠল

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-08-2025 ইং
  • 3543227 বার পঠিত
একটি ছবি যেভাবে কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠল
ছবির ক্যাপশন: একটি ছবি

একটি ছবি, একটি দিন—ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়েছিল বর্বরতার মুখ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশকাল: ৬ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন ডেস্ক

১৫ জুলাই ২০২৪: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্তাক্ত বিকেল

সেদিন সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশ ছিল উত্তপ্ত। কোটাবিরোধী সাধারণ ছাত্র আন্দোলনছাত্রলীগের পাল্টা কর্মসূচি যেন মুখোমুখি দুটি আগ্নেয়গিরির অপেক্ষায় ছিল বিস্ফোরণের।

আমি ছিলাম সেখানে—ক্যামেরা হাতে, ছবি তোলার দায়িত্বে। কিন্তু যা দেখেছি, তার ভয়াবহতা কোনো লেন্স পুরোপুরি ধারণ করতে পারবে না।

বিকেল ৩টা: ‘বিজয় একাত্তর হলে’ তীব্র সংকেত

বিকেলে খবর আসে—বিজয় একাত্তর হলে কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে মারধর করা হচ্ছে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে হলে রওনা দেয়। হলে পৌঁছাতেই ভেতর থেকে ছোড়া হয় ইট-পাটকেল, লাঠিসোঁটা। বাইরে থেকেও প্রতিরোধ আসে। একপর্যায়ে শুরু হয় উন্মত্ত, সহিংস সংঘর্ষ

সেই মুহূর্ত, যেখানে মানুষ হারিয়ে ফেলেছিল মানবতা

হলের বিভিন্ন তলা থেকে নেমে আসে দেশীয় অস্ত্র হাতে একদল বর্বর হামলাকারী। লোহার রড, বাঁশ, রামদা, পাইপ—সবকিছু দিয়েই চারপাশ ঘিরে ধরে আক্রমণ চালানো হয় নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর।

ভিসি চত্বর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে হিংসার জ্বালা। কেউ বাসের ভেতর লুকায়, কেউ আড়ালে, কিন্তু কাউকেই রেহাই দেওয়া হয়নি।

একটি নারী শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত মুখ—একটি প্রতীক হয়ে ওঠা

আমার ক্যামেরার লেন্স হঠাৎ আটকে যায় একজন নারী শিক্ষার্থীর মুখে।
তার চোখের নিচ দিয়ে অঝোরে রক্ত ঝরছে। তার মুখে ছিল তীব্র আতঙ্ক, দগ্ধ মানবতা। আর তার চারপাশে উল্লাসে হামলা চালাচ্ছিল কিছু মুখোশহীন বর্বর।

আমি ছবি তুলছিলাম, হামলাকারীরা বারবার নিষেধ করছিল। কিন্তু আমি থামিনি।

অফিসে ফিরে পাঠাই সেই ছবি। পরদিন বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর প্রথম পাতায় ছাপা হয় সেই রক্তাক্ত মুখ। আর তখনই যেন ছবির চেয়ে বেশি হয়ে ওঠে এই নারী—একটি প্রতীক, এক প্রতিবাদের মুখ।

ছবির শক্তি: যে মুহূর্ত বদলে দেয় আন্দোলনের গতি

ছবিটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে।
ছাত্ররা ছবিটি প্ল্যাকার্ড বানিয়ে নিয়ে আসে রাজপথে। “এই শিক্ষার্থীর চোখের রক্ত শুকায়নি”—এই শিরোনামে উঠে আসে ব্যানার।

৩৬ জুলাইয়ের পর সেই ছবিটি দেয়ালে দেয়ালে আঁকা হতে থাকে। শুধু দেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে ছবিটি স্থান পায়।

যেন এই ছবিই বলে দিচ্ছিল—আন্দোলন মানে কেবল দাবি নয়, আন্দোলন মানে দুঃখ, দমন আর দৃশ্যমান বাস্তবতা।

উপসংহার: যখন একটি ছবি রাষ্ট্রকে নাড়া দেয়

কখনো কখনো ইতিহাস বদলে দেয় শুধু একটি মুহূর্ত। আর সেই মুহূর্তকে যদি কেউ ধরে রাখতে পারেন, তবে সেটিই হয়ে ওঠে সময় ও সত্যের সাক্ষী।

১৫ জুলাই ২০২৪, বিকেল ৩টা ৪৭ মিনিট—একটি ক্যামেরা ক্লিক করেছিল, যা হয়তো হাজার প্রতিবাদ থেকেও বেশি গর্জে উঠেছিল।


সূত্র:

  1. মাঠ পর্যায়ে প্রতিবেদন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৫ জুলাই ২০২৪

  2. বাংলাদেশ প্রতিদিন (প্রথম পাতা), ১৬ জুলাই ২০২৪

  3. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর্কাইভ

  4. এক্সিবিশন লিস্টিং, ইউরোপ-এশিয়া শিল্প ফোরাম, ২০২৪–২৫

  5. ‘জুলাই গণআন্দোলন: ছবি ও প্রতিরোধ’—গবেষণা প্রতিবেদন, ঢাকা মিডিয়া ও জার্নালিজম ইনস্টিটিউট, ২০২৫

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency