| বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ এখনও ভরসা রাখছে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে: পতনের এক বছর পরেও অনুশোচনার অনুপস্থিতি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-08-2025 ইং
  • 5884316 বার পঠিত
আওয়ামী লীগ এখনও ভরসা রাখছে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে: পতনের এক বছর পরেও অনুশোচনার অনুপস্থিতি
ছবির ক্যাপশন: আওয়ামী লীগ এখনও ভরসা রাখছে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে

আওয়ামী লীগ এখনও ভরসা রাখছে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে: ক্ষমতাচ্যুতির এক বছর পরেও অনুশোচনার দেখা নেই

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশের তারিখ: ৭ আগস্ট ২০২৫
সংবাদ উৎস: বিবিসি বাংলা ও যুগান্তর বিশ্লেষণ

২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে ব্যাপক দমননীতি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের এক বছর পার হলেও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ তাদের শাসন পতনের ঘটনাকে এখনো 'দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র' হিসেবেই প্রচার করে যাচ্ছে।
দলটির নেতারা দাবি করছেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের 'ব্যর্থতা'ই আবার আওয়ামী লীগের জন্য 'রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের' নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছে।

অনুশোচনা নয়, বরং কৌশলী প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দমননীতি বা গণহত্যার জন্য এখনো কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করা হয়নি। বরং দলটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, রাজনৈতিক বিদ্বেষ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের 'অক্ষমতা'র কথা তুলে ধরেই আবারও জনসমর্থন ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন অবস্থানে দলটির তৃণমূল ও সমর্থক পর্যায়ে বিভ্রান্তি এবং হতাশা বাড়ছে।

৭৬ বছরের পুরনো দল সবচেয়ে বড় সংকটে

আওয়ামী লীগ তাদের ৭৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গভীর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংকটের মুখোমুখি।
দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের অনেকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে আছেন।
মাঠের রাজনীতিতে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই।
অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, যারা দেশে আছেন, তারাও আত্মগোপনে রয়েছেন।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, ভুল স্বীকার না করে এবং দমননীতির জন্য অনুশোচনা না করে কীভাবে আওয়ামী লীগ আবার জনসমর্থন আদায়ে সক্ষম হবে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ও দমননীতিই আজ দলটির জন্য বুমেরাং হয়েছে।

শেখ হাসিনা ও জয়কে ঘিরেই এখনও কৌশল নির্ধারণ

দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, শেখ হাসিনাই এখনো দলটির একক নিয়ন্ত্রক। তার ছেলের, অর্থাৎ সজীব ওয়াজেদ জয়ের সক্রিয়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি। দলটি মনে করছে, ভবিষ্যতের নেতৃত্বে জয় থাকবেন এবং তাকে সামনে রেখেই নতুন করে দলকে সংগঠিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কেনো এই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব?

ছাত্র–জনতার গণআন্দোলনে নিজেদের দমননীতির জন্য সমালোচিত হলেও আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই দায় এড়িয়ে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর ‘ষড়যন্ত্রের’ দিকেই আঙুল তুলছে।
জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন– এদের একত্রে দায়ী করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নিজের দোষ ঢাকার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে দলটি রাজনীতিতে সহানুভূতি ও আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি ফিরে পেতে চায়।

ইতিহাসে অনুশোচনার ঘাটতি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনুশোচনা প্রকাশ করার সংস্কৃতি দুর্লভ।
১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াতে ইসলামী দলটির অনেক নেতার বিচার হলেও দলটি কখনো জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি।
আওয়ামী লীগও সেই নজিরকে সামনে এনে নিজেদের অপরাধ ঢাকতে চায় বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের অংশগ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
দলের নিবন্ধন বাতিল এবং প্রতীক (নৌকা) বাদ দেওয়ার ফলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে।
সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও শীর্ষ নেতাদের অনেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে অভিযুক্ত।

আন্তর্জাতিক চাপ ও আসন্ন নির্বাচন

দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব মনে করছে, নির্বাচনের সময় দলকে বাইরে রাখা হলে তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বড় ইস্যু হয়ে উঠবে।
তারা এখন বিদেশে অবস্থানকারী নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় প্রচার চালিয়ে আন্তর্জাতিক জনমত গড়তে চাইছে।
কিন্তু মাঠে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকার ফলে তা আদৌ কতটা কার্যকর হবে, সে নিয়ে বিশ্লেষকদের সন্দেহ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “ষড়যন্ত্র তত্ত্বে ভর করে, জনগণের সামনে দুঃখ প্রকাশ না করে আওয়ামী লীগ মানুষের আস্থা ফিরে পাবে না।”
তিনি বলেন, “বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দলটির উচিত হবে কৌশল বদলানো।”

সাবেক সচিব ও বিশ্লেষক আবু আলম শহীদ খান বলেন, “আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানুষের মনে অনেক ক্ষোভ ও প্রশ্ন জমে আছে। তাদের অবস্থান যদি এখনও অস্পষ্ট থাকে, তাহলে রাজনীতিতে দ্রুত ফিরে আসা কঠিন হয়ে যাবে।”


সূত্র:

  • বিবিসি বাংলা, কাদির কল্লোল (রিপোর্ট: আগস্ট ২০২৫)

  • যুগান্তর রাজনৈতিক কলাম

  • Wikipedia: 2024 Bangladesh Uprising

  • বাংলাদেশ রাজনৈতিক ইতিহাস সংকলন (১৯৫০–২০২৫), বাংলা একাডেমি

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency