| বঙ্গাব্দ

৬৮ কারাগারে নৈতিকতা শিক্ষা কর্মসূচি: শিক্ষক নিয়োগ ও বই বিতরণ শুরু

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 09-08-2025 ইং
  • 5875542 বার পঠিত
৬৮ কারাগারে নৈতিকতা শিক্ষা কর্মসূচি: শিক্ষক নিয়োগ ও বই বিতরণ শুরু
ছবির ক্যাপশন: ৬৮ কারাগারে নৈতিকতা শিক্ষা কর্মসূচি

কারাগারে নৈতিকতা শিক্ষা কর্মসূচি: ৬৮ কারাগারে ৭০ হাজার বন্দির জন্য শিক্ষক, বই ও ধর্মচর্চার উদ্যোগ


প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৯ আগস্ট ২০২৫

দেশের ৬৮টি কারাগারে প্রায় ৭০ হাজার কয়েদি ও হাজতিকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির আওতায় ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নামাজের ব্যবস্থা, নৈতিকতা ভিত্তিক বইপুস্তক ও জায়নামাজ বিতরণসহ একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,

“কারাগারে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী কয়েদিরাও নিজ ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়নের সুযোগ পাচ্ছেন। অল্প দিনের মধ্যেই প্রথম কিস্তিতে বিপুলসংখ্যক ধর্মীয় বই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হবে।”

কর্মসূচির অগ্রগতি

  • চট্টগ্রাম ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা।

  • কেরানীগঞ্জ কারাগারে ইতোমধ্যে ২,৫০০ বন্দি পবিত্র কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

  • ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কারাগারে লাইব্রেরি পরিচালনা ও ধর্ম শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।

  • বর্তমানে প্রতি কারাগারে অন্তত একজন শিক্ষক থাকলেও শিগগিরই সংখ্যা বাড়ানো হবে।

ড. খালিদ হোসেন বলেন,

“কারাগারে থাকা সবাই অপরাধী নয়, অনেকেই মিথ্যা মামলায় বন্দি। আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যায় না। আমরা চাই কারাগারকে প্রকৃত অর্থে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (১৯৫০–২০২৫)

  • ১৯৫০–১৯৭১: পাকিস্তান আমলে কারাগারগুলোতে ধর্মীয় বা নৈতিক শিক্ষা কর্মসূচি কার্যত অনুপস্থিত ছিল।

  • ১৯৭১–১৯৯০: স্বাধীনতার পর কিছু কারাগারে সীমিত আকারে ধর্মীয় শিক্ষা চালু হয়, তবে ধারাবাহিকতা ছিল না।

  • ১৯৯১–২০০৬: মানবাধিকার সংগঠনগুলোর চাপের মুখে কারাগারে পুনর্বাসন ও শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসার শুরু হয়।

  • ২০০৭–২০০৮: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারাগার সংস্কারে আংশিক অগ্রগতি হলেও পরে মন্থর হয়।

  • ২০১০–২০২০: কয়েকটি আধুনিক কারাগারে লাইব্রেরি ও ধর্মীয় শিক্ষা কক্ষ যুক্ত হয়, তবে সারা দেশে সমন্বিত উদ্যোগের অভাব ছিল।

  • ২০২৪–২০২৫: জুলাই আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো সব কারাগারে নৈতিকতা শিক্ষা ও ধর্মীয় চর্চা একসাথে চালুর ঘোষণা দেয়।

বিশ্লেষণ

  1. পুনর্বাসনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি: এই উদ্যোগ বন্দিদের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে।

  2. বিচারপূর্ব অধিকার: ‘দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ’ নীতি রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  3. বহুধর্মীয় অন্তর্ভুক্তি: সব ধর্মের বন্দিদের জন্য সমান সুযোগ দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চর্চার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

  4. চ্যালেঞ্জ: শিক্ষক সংকট, বই সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং বন্দিদের মানসিক প্রস্তুতি বাস্তবায়নে বড় বাধা হতে পারে।

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন


সূত্র

  1. বাসস – ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের সাক্ষাৎকার

  2. বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তর – কারাগার সংস্কার ও নৈতিক শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য

  3. গুগল নিউজ আর্কাইভ – কারাগারে পুনর্বাসন কর্মসূচির পূর্ববর্তী ইতিহাস

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency