জুলাই সনদের কার্যকর বাস্তবায়ন ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের দাবি: ভিপি নুরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমাবেশে সতর্কবার্তা"
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, “জুলাই সনদপরবর্তী সংসদ বাস্তবায়ন করবে সেটি নয়, বরং এর আইনি ভিত্তি এই সরকারকে দিতে হবে।” তার মতে, আসন্ন নির্বাচন অবশ্যই রাজনৈতিক সমঝোতা ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ হিসাবে হতে হবে, যেখানে উচ্চকক্ষে সব দলের আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর মুক্ত মঞ্চের মাঠে জেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সভাপতি আশরাফুল হাসান তপু এবং প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মুঞ্জুর মোরশেদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজিউর ইসলাম তানভীর, সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসানুজ্জামান ওবায়দুল্লাহ, জিহাদ হোসেন লিটনসহ জেলা ও উপজেলা নেতারা।
ভিপি নুর বলেন, “আমরা যে নিয়ে বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, তার প্রাপ্তির চেয়ে অপ্রাপ্তিই বেশি। রাষ্ট্র সংস্কারের আওয়াজ তুললেও জুলাই সনদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি।” তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় ঐকমত্যের জায়গায় এখন দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও বিভাজন তৈরি হয়েছে, যা ফ্যাসিবাদের সুযোগ করে দিচ্ছে এবং সময়মতো নির্বাচন না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
সরকারের প্রতি মৌলিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা, সার্বজনীন স্বাস্থ্য বীমা, জেলাপর্যায়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কমিশন গঠন, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন এবং নিরাপদ-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সংসদ কাঠামো নিয়ে আলোচনা বহু পুরোনো। পাকিস্তান আমলে (১৯৫০–১৯৭০) পূর্ব বাংলার প্রতিনিধিত্ব সীমিত ছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশ এককক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু করে, কিন্তু দ্বিকক্ষব্যবস্থার প্রস্তাব বারবার আলোচনায় এসেছে—বিশেষ করে জাতীয় ঐক্য ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর যুক্তিতে।
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পতনের পর আবারও সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হয়। কিন্তু ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-আওয়ামী লীগের পালাবদল সত্ত্বেও সাংবিধানিক কাঠামোতে বড় সংস্কার আসেনি।
২০০৭–২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে “সংস্কারপন্থী” ধারণা রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তোলে। ভিপি নুরের বক্তব্যে সেই সময়ের শিক্ষা স্পষ্ট—আইনগত ভিত্তি ছাড়া কোনো “সংস্কার” স্থায়ী সমাধান নয়।
২০২৪ সালের “জুলাই আন্দোলন” শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যায়। আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় এবং জুলাই সনদ প্রণয়ন হয়, যেখানে রাজনৈতিক সংস্কার, স্বচ্ছ নির্বাচন ও অংশীদারিত্বমূলক ক্ষমতা বণ্টনের রূপরেখা দেওয়া হয়। তবে ভিপি নুরের অভিযোগ—এখনও সেই সনদের মূল অংশ কার্যকর হয়নি।
ভিপি নুরের সতর্কতা মূলত এই যে, আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি ছাড়া জুলাই সনদের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। তার প্রস্তাব—দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সংস্কার, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ—শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের নীতি নির্দেশিকা হতে পারে।
সূত্র:
বাংলাদেশ প্রতিদিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদ সমাবেশ, ঐতিহাসিক তথ্য: বাংলাদেশ স্বাধীনতা ইতিহাস, ১/১১ সরকার দলিল, জুলাই সনদ নথি (২০২৪), উইকিপিডিয়া, প্রামাণিক সংবাদমাধ্যম আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |