নারায়ণগঞ্জে পোশাক কারখানায় অস্থিরতা: এক বছরে ৯টি স্থায়ীভাবে বন্ধ, চাকরি হারিয়েছেন হাজারো শ্রমিক"
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
নারায়ণগঞ্জের পোশাক শিল্পে অস্থিরতা ক্রমেই গভীর হচ্ছে। গত এক বছরে নানা কারণে মোট ৯টি পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে চাকরি হারিয়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক।
এর মধ্যে ৩ আগস্ট ফতুল্লার অ্যাসরোটেক্স গার্মেন্টসে অতিরিক্ত টিফিন বিরতির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মালিকপক্ষের অভিযোগ, “উসকানিমূলক কর্মবিরতি” ও অফিস কক্ষ ভাঙচুরের কারণে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
জেলা শিল্পাঞ্চল পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে ১,৮৩৪টি পোশাক কারখানা রয়েছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের হিসাবে, নিবন্ধিত কারখানা ১,০১০টি হলেও গত এক বছরে ৯টি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে নিট গার্ডেন, একে ফ্যাশন লিমিটেড, লা মেইজন কচুর লিমিটেড, মোল্লা নিট ফ্যাশনসহ অন্তত ৮টি বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
অ্যাসরোটেক্সের মালিক আসাদুল ইসলাম বলেন,
“লাভবান না হলেও কোনো মাসে শ্রমিকদের বেতন দেরিতে দিইনি। কিন্তু তুচ্ছ দাবিতে আন্দোলনের কারণে বিদেশি বায়াররা সরে গেছেন। এখন ইচ্ছা করলেই কারখানা চালু করা সম্ভব নয়।”
এএসটি গার্মেন্টসের মালিক আতিকুর রহমান জানান, অর্ডার কমে যাওয়া ও আর্থিক সংকটে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কয়েক মাস ভর্তুকি দিয়ে কারখানা চালানো হয়েছিল।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি এমএ শাহীন বলেন,
“বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের অনেকেই এখন অটোরিকশা চালাচ্ছেন, কেউ কেউ গ্রামে চলে গেছেন।”
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক রাজীব চন্দ্র ঘোষ বলেন,
“আমাদের চেষ্টা থাকে যেন কোনো কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ না হয়।”
বিকেএমইএর সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন,
“করোনা-পরবর্তী সময়ে পোশাক খাতের সমস্যা বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। স্থিতিশীলতা না ফিরলে আরও কারখানা বন্ধ হবে।”
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন,
“বিদেশি বায়ার না পাওয়া, আর্থিক সংকট ও সিন্ডিকেটের কারণে কারখানা বন্ধ হচ্ছে। সরকারের উচিত শিল্প বন্ধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।”
১৯৮০ দশকের পর থেকে নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের অন্যতম শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আর্থিক সংকট ও বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার চাপের কারণে সময় সময় কারখানা বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
২০১3-14 সালে রাজনৈতিক সহিংসতা ও সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে কয়েক ডজন কারখানা বন্ধ হয়েছিল।
পোশাক শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮০% এর বেশি যোগান দেয়। নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ মানে শুধু স্থানীয় শ্রমিক বেকার হওয়া নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়া।
সূত্র:
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, জেলা শিল্পাঞ্চল পুলিশ, বিকেএমইএ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স, যুগান্তর আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |