ঢাকা – বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে শ্রদ্ধা করা হয়। তবে ইতিহাসের প্রতিটি নেতার মতো তাঁর শাসনামলেও আলো-অন্ধকার দুই দিকই ছিল। গবেষক ও সমালোচকেরা বারবার প্রশ্ন তুলেছেন সেই বিতর্কিত অধ্যায়গুলো নিয়ে।
১৯৭৪ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ মানুষ মারা যায়। ইতিহাসবিদ নাওমি হোসেনের মতে, বাজারে খাদ্য মজুদ থাকলেও ত্রুটিপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা, সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি ছিল মূল কারণ। এই দুর্ভিক্ষ আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কা দেয়।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত র্যক্খী বাহিনী শুরুতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আতঙ্কের প্রতীকে পরিণত হয়।
বিরোধী দল দমন
বিনা বিচারে হত্যা
অপহরণ ও নির্যাতন
এসব অভিযোগ সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ায়। গবেষক বদরুদ্দীন উমরের মতে, “র্যক্খী বাহিনী আওয়ামী লীগকে জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।”
১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল (BAKSAL) গঠন করেন। এর ফলে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত হয়ে যায়। সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক বিরোধী দমন এবং নাগরিক স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার কারণে সমালোচকেরা এটিকে গণতন্ত্রের মৃত্যু বলে অভিহিত করেন।
শেখ মুজিব ছিলেন নিঃসন্দেহে ক্যারিশম্যাটিক নেতা, কিন্তু সমালোচকদের মতে অনেক সময় তিনি অহংকারী হয়ে উঠেছিলেন। দুর্ভিক্ষে নিম্নবিত্ত শ্রেণির দুর্দশা রাষ্ট্রীয়ভাবে উপেক্ষিত হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এই ব্যবধান জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ায়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন। অথচ দেশের কিছু স্থানে মিষ্টি বিতরণ ও উল্লাস প্রকাশিত হয়েছিল। প্রফেসর নাওমি হোসেন মন্তব্য করেন, “তাঁর মৃত্যুর পর জনগণের মধ্যে কোনো শোকের প্রকাশ দেখা যায়নি।” বিশ্লেষকদের মতে, এর মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয় তিনি শেষ সময়ে জনগণের আস্থা হারিয়েছিলেন।
শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি। তবে তাঁর শাসনামলের শেষদিকে দুর্ভিক্ষ, দুর্নীতি, র্যক্খী বাহিনীর দমননীতি, বাকশাল, এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্নতা—এসবই ইতিহাসে তাঁর ‘ডার্ক সাইড’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। একজন মহান নেতা যেমন দেশের জন্ম দিতে পারেন, তেমনি ভুল নীতি জনগণের ক্ষোভও ডেকে আনতে পারে—এটাই শেখ মুজিবের শাসনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
Naomi Hossain, The Politics of Food and Famine in Bangladesh
বদরুদ্দীন উমর, বাংলাদেশের রাজনীতি
বাংলাদেশ ইতিহাস আর্কাইভস ও সমকালীন গবেষণা
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |