হামাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় ইসরাইল, শর্ত—সব জিম্মি মুক্তি
হামাসের দেওয়া ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময়ের প্রস্তাব ইসরাইল বিবেচনা করছে। তবে দেশটির অবস্থান স্পষ্ট—যুদ্ধ শেষ হবে কেবল তখনই, যখন গাজায় থাকা ৫০ জন জিম্মির সবাইকে মুক্তি দেওয়া হবে।
১০ জন জীবিত ও ১৮ জন মৃত জিম্মির বিনিময়ে ২০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া।
বন্দিদের মধ্যে নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কও থাকবে।
মানবিক দিক বিবেচনায় গাজা থেকে আংশিক সেনা প্রত্যাহার এবং আরও বেশি ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি।
এই প্রস্তাব এসেছে মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে। তবে ইসরাইল জানিয়েছে, সব জিম্মি মুক্তি না হলে যুদ্ধ শেষ নয়।
হামাস কর্মকর্তা ইজ্জাত আল-রিশক বলেছেন, “এই যুদ্ধবিরতি একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি, যা ভবিষ্যতে যুদ্ধ শেষ করার আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে।” আলোচনার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, এবারের প্রস্তাবে হামাস কোনো অতিরিক্ত শর্ত জুড়ে দেয়নি।
১৯ আগস্ট রাতে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে গাজা সিটি দখলের চার ধাপের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন:
১. দক্ষিণ গাজায় মানবিক অবকাঠামো তৈরি
২. জনগণকে সরিয়ে নেওয়া
৩. শহর ঘিরে ফেলা
৪. স্থল অভিযান শুরু করা
একই দিন ইসরাইলি গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় অন্তত ২০ ফিলিস্তিনি নিহত হন। আক্রমণের আশঙ্কায় হাজারো ফিলিস্তিনি পশ্চিম ও দক্ষিণে পালিয়ে গেছে।
ইসরাইলের ভেতরেও যুদ্ধবিরতির দাবি জোরালো হচ্ছে। হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির দাবি তুলছে।
জিম্মিদের পরিবারগুলো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জোটের কট্টরপন্থি দুই মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও ইতামার বেন-গভির চাপে রয়েছেন। তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং গাজা দখলের পক্ষে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় অব্যাহত ইসরাইলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অবরোধ ও হামলার ফলে উপত্যকাটির অধিকাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করছে—দুই পক্ষের মধ্যে এখনও মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে। ইসরাইল চাইছে হামাস অস্ত্র সমর্পণ করুক এবং নেতৃত্ব গাজা ত্যাগ করুক। হামাস প্রকাশ্যে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এই প্রস্তাবকে অগ্রগতির একটি সম্ভাব্য ধাপ হিসেবে দেখছে।
রয়টার্স
আল জাজিরা
বিবিসি
দ্য গার্ডিয়ান
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |