ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় আয়োজিত ভারত-রাশিয়া বিজনেস ফোরামে যোগ দিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রুশ কোম্পানিগুলোকে ভারতের বাজারে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ফোরামে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্টুরভ।
জয়শঙ্কর বলেন—
“ভারত দ্রুত নগরায়ণ ও আধুনিকীকরণের পথে এগোচ্ছে। নতুন নতুন পণ্যের চাহিদা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি রুশ সংস্থাগুলোর জন্য ভারতের বাজারে প্রবেশ ও বিনিয়োগের বড় সুযোগ।”
তিনি আরও জানান, ভারতের শিল্প ও কৃষিক্ষেত্রে সার, রাসায়নিক দ্রব্য এবং অপরিহার্য কাঁচামাল সরবরাহে রাশিয়ার অভিজ্ঞ কোম্পানিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফোরামে জয়শঙ্কর ভারত-রাশিয়া মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (FTA) দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেন। তাঁর মতে, এ চুক্তি হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বিদ্যমান বাধা দূর হবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মান্টুরভও এ প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়ে বলেন—
“আমরা ভারতে তেল সরবরাহ অব্যাহত রেখেছি। প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।”
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি চালিয়ে গেছে।
এর জেরে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় কিছু পণ্যের ওপর ৫০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে এবং আরও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এর বিপরীতে, রাশিয়া নয়াদিল্লিকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা ভারতের পাশে থাকবে এবং জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখবে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা আইওসি ও বিপিসিএল সাময়িকভাবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ রেখেছিল। তবে সেপ্টেম্বরে ছাড় বাড়ানোয় আবার আমদানি শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিজনেস ফোরাম কেবল বাণিজ্য নয়, বরং কৌশলগত বার্তাও বহন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও শুল্কনীতির মধ্যে ভারত-রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা নয়াদিল্লির ব্যালান্সড ফরেন পলিসিকে সামনে এনেছে।
মস্কো চাইছে, ভারতের মাধ্যমে এশিয়ার বাজারে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে।
অন্যদিকে, ভারতও রাশিয়ার তেল ও সার নির্ভরতা বজায় রেখে পশ্চিমাদের চাপ সামাল দিতে চাইছে।
এস জয়শঙ্করের মস্কো সফর দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক জোরদারের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সীমান্ত রাজনীতি ও বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেও ভারত-রাশিয়ার অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন টিকে আছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও পশ্চিমাদের চাপের মুখে নয়াদিল্লি কতটা দীর্ঘমেয়াদে এই সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে পারবে?
রয়টার্স
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস
দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন
ইন্ডিয়া টুডে
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |