| বঙ্গাব্দ

ডাকসু নির্বাচনে তিন যুগ পর পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে ছাত্রশিবির

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-08-2025 ইং
  • 4354300 বার পঠিত
ডাকসু নির্বাচনে তিন যুগ পর পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে ছাত্রশিবির
ছবির ক্যাপশন: ছাত্রশিবির

ডাকসু নির্বাচনে তিন যুগ পর ছাত্রশিবিরের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল

ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০২৫ (বিশেষ প্রতিবেদক) – দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই সরগরম হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস রাজনীতি। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, বামপন্থী সংগঠনগুলো তাদের প্যানেল ঘোষণা করেছে। তবে এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। প্রায় তিন যুগ পর প্রথমবারের মতো সংগঠনটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে।

শিবিরের প্যানেল ও প্রার্থীরা

‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ নামে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে শিবির। তাদের প্যানেলে –

  • সহসভাপতি (ভিপি): সাদিক কায়েম

  • সাধারণ সম্পাদক (জিএস): এস এম ফরহাদ

  • সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস): মহিউদ্দিন খান

এছাড়া তালিকায় রয়েছেন চার নারী শিক্ষার্থী, একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং জুলাই অভ্যুত্থানে আহত একজন শিক্ষার্থী। শিবিরের দাবি, তারা আদর্শিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে বৈচিত্র্যময় শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করেছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

শিবির প্রথমবার ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেয় ১৯৭৯ সালে। আবু তাহের ভিপি এবং আব্দুল কাদের বাচ্চু জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সলিমুল্লাহ হলে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে জয়ী হয় শিবিরের প্রার্থী ওমর ফারুক।

পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও তারা অংশ নেয়—

  • ১৯৮০: তাহের-কাদের পরিষদ

  • ১৯৮২: এনামুল হক মঞ্জু (ভিপি), আব্দুল কাদের বাচ্চু (জিএস)

  • ১৯৮৯: আ ন ম শামসুল ইসলাম (ভিপি), আমিনুল ইসলাম (জিএস)

  • ১৯৯০: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম (ভিপি), মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান (জিএস), শফিকুল আলম হেলাল (এজিএস)

১৯৯০ সালের নির্বাচনে শিবির প্রায় ১২০০–১৩০০ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল, ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের পরেই। এরপর দীর্ঘদিন তারা প্রকাশ্যে সক্রিয় ছিল না।

এবার কেন আলোচনায় শিবির?

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিবির আবার ক্যাম্পাসে সংগঠিত হচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় কিছু মুখ সামনে আসায় তারা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ছাত্রশিবিরের নেতাদের দাবি—এবারের নির্বাচন গণতান্ত্রিক সুযোগ কাজে লাগানোর বড় প্ল্যাটফর্ম।

ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি ও ভিপি পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম বলেন,
“ছাত্রশিবির যাত্রা শুরুর পর পাঁচটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। শুধু ২০১৯ সালে ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক বাস্তবতায় আমরা প্যানেল দিতে পারিনি। এবার সর্বোচ্চ সাফল্যের প্রত্যাশা করছি।”

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

শিবিরের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

  • অনেক শিক্ষার্থী এটিকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে দেখছেন।

  • তারা মনে করেন, ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে কাকে তারা চান।

  • অন্যদিকে, বামপন্থী সংগঠনগুলো শিবিরের অতীত কর্মকাণ্ড এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যোগ্য হলে যেকোনো সংগঠন নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।

রাজনৈতিক সমীকরণ

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিবিরের অংশগ্রহণ ভোটের সমীকরণ জটিল করবে। ডানপন্থী ও ইসলামপন্থী ভোটের একটি অংশ তারা পাবে, যা ছাত্রদল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এতে একটি ত্রিমুখী লড়াই তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তার প্রভাব ছাত্ররাজনীতিতেও পড়েছে। এবার ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগ–ছাত্রদল–শিবিরসহ একাধিক শক্তিশালী প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটি সুস্থ ছাত্ররাজনীতি ফিরিয়ে আনার বড় সুযোগ।


সূত্র

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সাবেক ডাকসু নেতৃবৃন্দ, ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency