বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে চট্টগ্রাম বন্দরকে আরো দক্ষ করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় সংস্কার অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।
শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটের ডেইলি স্টার ভবনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ও ট্রাম্পের শুল্ক : বাণিজ্যব্যবস্থা পরবর্তী বিশ্বের অর্থনৈতিক কূটনীতি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরকে যদি সিঙ্গাপুরের মতো দক্ষ করা না যায়, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আটকে রাখা যাবে না।”
আলোচনাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেইন)। এতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রাশেদ আল তিতুমীর, অর্থনীতিবিদ জৌতি রহমান, জিয়া হাসান প্রমুখ।
প্রেসসচিব বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা হয়তো ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করিনি, কিন্তু গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি খারাপ কিছু নয়।”
অভিযোগ ছিল অন্তর্বর্তী সরকার অভিজ্ঞতায় দুর্বল। কিন্তু শফিকুল আলম বলেন, সঠিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস থাকলে অন্তর্বর্তী সরকারও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে।
প্রেসসচিব জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় ২০ শতাংশ শুল্ক নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য।
তিনি বলেন, “এই আলোচনা ছিল সরকারের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ, কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করেছে।”
রোহিঙ্গা ইস্যু ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতির মতো জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলাতেও বাংলাদেশ কূটনৈতিক প্রস্তুতির মাধ্যমে সঠিক কৌশল দেখাতে সক্ষম হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, তিনটি বিষয় আলোচনায় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল:
১. প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা।
২. জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা।
৩. বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের বৈশ্বিক বাজার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা।
তিনি জানান, বাংলাদেশ এখন বিশ্ববাজারে বড় ভোক্তা ও আমদানিকারক। কটন, ভোজ্যতেল, পোল্ট্রি ফিডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। এই বাস্তবতাকে আলোচনায় লেভারেজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি দ্রুত বাড়ছে।
শফিকুল আলম আশা প্রকাশ করেন, ট্যারিফ আলোচনার সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধির নতুন প্ল্যাটফরমে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বাজারে আরও প্রবেশাধিকার। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান বা ভিয়েতনামের মতো আমরাও বিশ্বাস করি—যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাড়িয়ে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির নতুন পথে এগিয়ে যাবে।”
চট্টগ্রাম বন্দরকে দক্ষ করার আহ্বান আসছে এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশ বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে নতুন অবস্থান তৈরি করছে। সাম্প্রতিক মার্কিন শুল্ক চুক্তি কূটনীতির এক সফল দৃষ্টান্ত, যা দেখাচ্ছে—অন্তর্বর্তী সরকারও সঠিক কৌশলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সাফল্য অর্জন করতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার সংস্কার এবং বৈশ্বিক বাজারে সক্রিয় ভূমিকা—সব মিলিয়ে আগামীতে বাংলাদেশের জন্য আরো বৃহৎ বিনিয়োগের দরজা খুলে দিতে পারে।
অনুষ্ঠানস্থল ও বক্তব্য: প্রেসসচিব শফিকুল আলম, গোলটেবিল আলোচনা (ডেইলি স্টার ভবন, ঢাকা)
অংশগ্রহণকারী: ব্রেইন আয়োজক, ড. রাশেদ আল তিতুমীর, জৌতি রহমান, জিয়া হাসান
প্রেক্ষাপট: অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্যারিফ আলোচনা
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |