নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পার হলেও প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকেই প্রশাসনে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। চর দখলের মতো ‘চেয়ার দখল’–এর প্রতিযোগিতায় নামেন বিভিন্ন স্তরের আমলারা।
সাবেক সরকারের সময় পদোন্নতিবঞ্চিত হয়ে অনসার্ভিসে থাকা কর্মকর্তারা এক মাসের মধ্যে তিন ধাপে পদোন্নতি পান। অন্যদিকে ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত কিছু জেলা প্রশাসককে সরিয়ে দিয়ে নতুন ডিসি নিয়োগ দিতে গিয়ে দেখা দেয় চরম বিশৃঙ্খলা।
ডিসি নিয়োগকে ঘিরে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা হাতাহাতি, ধ্বস্তাধ্বস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে এক ঘণ্টা ওয়াশরুমে আটকে রাখার ঘটনাও ঘটে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে আওয়ামী শাসনের পতনের পরও প্রশাসনে স্থিতিশীলতা আসেনি। বরং অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতি স্থায়ী সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, পদোন্নতিতে ভূতাপেক্ষ ব্যবস্থা, পদায়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে প্রশাসন কাঠামো ভেঙে পড়েছে বলে অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে।
প্রায় ১৬ বছর পর গত ডিসেম্বর মাসে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সম্পদ বিবরণী নেওয়া হলেও যাচাই করা হয়নি। আওয়ামী সরকারের সময় উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তা হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে। অথচ তাদের সম্পদ যাচাই না করায় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে।
এর আগে ২০০৭ সালে ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও সম্পদ বিবরণী নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তখনো তা পর্যালোচনা করা হয়নি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সাবেক সিনিয়র সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান বলেন, “গত এক বছরে প্রশাসন, পুলিশ এবং বিচারালয়ে সরকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বরং ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।”
সাবেক সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার বলেন, “প্রশাসনের টপ টু বটম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। ঘুষ ও স্বেচ্ছাচারিতা বেড়ে গেছে। চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। আমরা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণআন্দোলনের চেতনা ধারণ করতে পারেনি। প্রশাসন সংস্কারের পরিবর্তে আগের নষ্ট কাঠামো বহাল রাখায় অনিয়ম বেড়েছে। বিএনপিপন্থি কর্মকর্তাদের কোণঠাসা করে রাখা হলেও বহিরাগতদের খবরদারিতে প্রশাসনের ভেতরে দ্বন্দ্ব আরও ঘনীভূত হয়েছে।
পদোন্নতি, পদায়ন ও নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা না গেলে প্রশাসন স্থিতিশীল হবে না বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।
যুগান্তরের অনুসন্ধান ও সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সাক্ষাৎকার
প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র ও কর্মকর্তা পর্যায়ের বক্তব্য
সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান ও এবিএম আব্দুস সাত্তারের সাক্ষাৎকার
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |