| বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার পতন নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের নতুন প্রোপাগান্ডা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-09-2025 ইং
  • 3313956 বার পঠিত
শেখ হাসিনার পতন নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের নতুন প্রোপাগান্ডা
ছবির ক্যাপশন: নতুন প্রোপাগান্ডা

শেখ হাসিনার পতন ঘিরে নতুন প্রোপাগান্ডা: ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন

প্রতিবেদনকারীর নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ


২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন নিয়ে নতুন দৃশ্যকল্প হাজির করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজ ইন্ডিয়া। তাদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনার পতনের কয়েক মাস আগে থেকেই মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ আওয়ামী লীগের ভেতরে প্রভাব বিস্তার করেছিল।

তিন মন্ত্রীকে ‘প্রভাবিত’ করার অভিযোগ

সাংবাদিক চন্দন নন্দীর প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি—সালমান এফ রহমান (বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা), আনিসুল হক (আইনমন্ত্রী) এবং মোহাম্মদ এ আরাফাত (তথ্য প্রতিমন্ত্রী)—কে মার্কিন শক্তিগুলো প্রভাবিত করেছিল। যদিও এর কোনো প্রমাণ হাজির করা হয়নি, তবু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিনজনের কার্যকলাপ সরকারের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়েছিল।

শেখ হাসিনার শেষ দিনগুলো

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এবং পরে ভারতে চলে যান। এরপর ১৩ আগস্ট রাতে ঢাকার সদরঘাট থেকে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। আরাফাতকে নিয়ে বলা হয়, তিনি পশ্চিমা যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে বিদেশে পালিয়ে যান।

এক আওয়ামী লীগ নেতাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শেষ সময়ে শেখ হাসিনা নিজের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে কিছুই টের পাননি। বরং সালমান এফ রহমানকে “দরবেশ” নামে আখ্যা দিয়ে বলা হয়, তিনি কার্যত উপ-প্রধানমন্ত্রীর মতো ভূমিকা পালন করছিলেন এবং মার্কিন কূটনীতিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ তত্ত্ব

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশের ক্ষমতার পরিবর্তনের পরিকল্পনা শুরু করে। অন্য সূত্র বলছে, ২০২৩ সালে ওয়াশিংটন যখন অবাধ নির্বাচনের দাবি জোরালো করে, তখন থেকেই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন শুরু হয়। এ প্রক্রিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস এবং সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ভূমিকাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২২ সালে ভারতের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে উৎখাতের কৌশল ছিল বহুমাত্রিক—কোয়াডে যোগদান, সামরিক চুক্তি, জ্বালানি খাতের চুক্তি এবং সীমান্ত সংকট সমাধানে চাপ ছিল এর অংশ।

আন্দোলনের সময়ে বিতর্কিত মন্তব্য

তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরাফাতের “সরকারের হাতে যথেষ্ট বুলেট আছে” মন্তব্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বাড়িয়ে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যেও তখন দ্বিধা ও বিভক্তি দেখা দেয়।

৩০ জুলাই শেখ রেহানা জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় ফেরেন এবং দলের কর্মসূচি বাতিলের নির্দেশ দেন। এর ফলে আন্দোলনের প্রতি আওয়ামী লীগের পাল্টা প্রতিক্রিয়া থেমে যায়।

পতনের পর মূল্যায়ন

পত্রিকাটি লিখেছে, সরকারের পতনের পর কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতায় থাকাকালীন তারা দল বা সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ পাননি। শেখ হাসিনার বিচ্ছিন্নতার পেছনে ব্যর্থ চীন সফরকেও বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময়ে দিল্লি শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা হারিয়েছিল, বিশেষ করে তার চীন সফরের কারণে।


সূত্র

  1. নর্থইস্ট নিউজ ইন্ডিয়া

  2. ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার উদ্ধৃত প্রতিবেদন

  3. আওয়ামী লীগ নেতাদের সাক্ষাৎকার ও বক্তব্য

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency