| বঙ্গাব্দ

ডাকসু নির্বাচন ২০২৫: ছয় বছর পর শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 09-09-2025 ইং
  • 5652162 বার পঠিত
ডাকসু নির্বাচন ২০২৫: ছয় বছর পর শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব
ছবির ক্যাপশন: শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

ছয় বছর পর ডাকসু নির্বাচন: ভোটে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

প্রতিবেদক

বিডিএস বুলবুল আহমেদ


মূল প্রতিবেদন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ছয় বছর পর আবারও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিকাশের দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এ নির্বাচনকে নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং এর আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন।

শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

প্রথমবার ভোট দিয়ে সুমন হক নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “নিজের ইচ্ছেমতো ভোট দিতে পারাটা আমার অধিকার, একইসঙ্গে সম্মানেরও। ফ্যাসিজম পতনের পর এমন পরিবেশে ভোট দিতে পারছি, সত্যিই ভালো লাগছে।”

আরেক শিক্ষার্থী আলফাজ হোসেন জানান, “আমি ভোটার হয়েছি অনেক আগেই। কিন্তু কখনো পছন্দের প্রার্থীকে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারিনি। এবার সেই সুযোগ পেয়েছি।”

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “এটাই আমার প্রথম ভোট। আমি এমন একজনকে বেছে নিতে পেরেছি যিনি আমার কণ্ঠকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। সহপাঠীদেরও আহ্বান জানাই ভোট দিতে।”

নির্বাচন কার্যক্রম ও সংখ্যা

ডাকসুর চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ২০ হাজার ৮৭৩ এবং ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯০২ জন। এবার ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৪৭১ জন প্রার্থী। পাশাপাশি ১৮টি হল সংসদের ২৩৪ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৩৫ জন।

ভোটগ্রহণে ব্যালটের আকার এবার বড় হয়েছে। ডাকসুর ব্যালট থাকছে পাঁচ পৃষ্ঠার এবং হল সংসদের এক পৃষ্ঠার। ভোট দিতে হবে অপটিক্যাল মার্ক রিডার (ওএমআর) শিটে। প্রতিটি ভোটারের জন্য নির্ধারিত সময় রাখা হয়েছে আট মিনিট।

ভোটকেন্দ্র সংখ্যা ৮টিতেই থাকছে ৮১০ বুথ, যা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমাতে সাহায্য করছে।

প্রার্থী ও সংগঠন

এবারের নির্বাচনে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, বামজোটসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্যানেলও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ভিপি ও জিএসসহ বিভিন্ন পদে নারী প্রার্থীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এবার ভোটের বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ডাকসু শুধু একটি ছাত্র সংসদ নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

  • ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন,

  • ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান,

  • ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি,

  • ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—

প্রতিটি বড় রাজনৈতিক টার্নিং পয়েন্টে ডাকসুর নেতৃবৃন্দ সামনের সারিতে ছিলেন। সামরিক শাসনের সময় ডাকসু বন্ধ থাকলেও প্রতিবার পুনর্জাগরণ ঘটেছে গণআন্দোলনের মাধ্যমে।

২০২৫ সালের এই নির্বাচনকে অনেকে দেখছেন “দ্বিতীয় গণতান্ত্রিক অধ্যায়” হিসেবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দিয়ে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করছেন।

বিশ্লেষণ

  • শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করছে, ফ্যাসিবাদী চাপ ও প্রভাবের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের আস্থা ফিরে এসেছে।

  • নারী প্রার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের নেতৃত্বে লিঙ্গসমতার সম্ভাবনা জোরালো করছে।

  • ইলেকট্রনিক সিস্টেম (ওএমআর শিট) ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তি নির্ভর নির্বাচন ব্যবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।


সূত্র

  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্কাইভ, ডাকসু নির্বাচন ইতিহাস।

  2. বাংলাদেশ ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কিত গবেষণা প্রতিবেদন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগ)।

  3. মাঠ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অভিমত ও সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার।

    প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency