| বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জে মির্জা ফখরুল: ‘উড়ে এসে নয়, লড়াই করেই বিএনপি এখানে’

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-09-2025 ইং
  • 8084728 বার পঠিত
কিশোরগঞ্জে মির্জা ফখরুল: ‘উড়ে এসে নয়, লড়াই করেই বিএনপি এখানে’
ছবির ক্যাপশন: কিশোরগঞ্জে মির্জা ফখরুল

‘উড়ে এসে জুড়ে বসেনি, লড়াই করেই এখানে’—কিশোরগঞ্জে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “বিএনপি উড়ে এসে জুড়ে বসেনি; লড়াই-সংগ্রাম করেই আজকের অবস্থানে এসেছে। যাদের সদ্য জন্ম, কিংবা দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে যাদের ভিন্ন মত ছিল—তারা এখন সমালোচনা করে।”

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিকী উপলক্ষে উদ্বোধনী ভাষণে তিনি আরও বলেন, “কখনোই মাথা নত করেনি বিএনপি—তাই নেতা-কর্মীদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।” তাঁর ভাষ্য, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতায় “বাংলাদেশকে নতুনভাবে বিনির্মাণ করবেন তারেক রহমান।”

বিএনপিকে নিয়ে “ষড়যন্ত্র” ও “মিথ্যা অপবাদ”-এর অভিযোগ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, “ফিনিক্স পাখির মতো—বারবার ধ্বংসের চেষ্টা হয়েছে, তবু বিএনপিকে কেউ ভাঙতে পারেনি।” গুম-খুনের ভয় দেখিয়ে যারা ভাঙতে চেয়েছিল, তারা-ই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে— দাবি করেন তিনি।

দীর্ঘ ৯ বছর পর কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির এ সম্মেলনে বিকেলে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান—সম্মেলনস্থ সূত্রে এমনই জানা গেছে।


প্রেক্ষাপট: বিএনপি, নেতৃত্ব ও চলমান নির্বাচন-আলোচনা

  • দলীয় পটভূমি: বিএনপি ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন; বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (২০১৬ থেকে) এবং তারেক রহমান দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

  • পিআর বনাম এফপিটিপি বিতর্ক: অন্তর্বর্তী সময়ের সংস্কার-আলাপের পর থেকে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) পদ্ধতি নিয়ে তর্ক তুঙ্গে—কয়েকটি ইসলামপন্থী ও ছোট দল পিআরের পক্ষে, বড় দলগুলো (যেমন বিএনপি) অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিরোধিতায়; এই তর্ক জুলাই সনদ বাস্তবায়ন-উত্তর নির্বাচনী কাঠামোর আলোচনাকেও প্রভাবিত করছে। 


বিশ্লেষণ

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে তিনটি স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়—

  1. ঐতিহাসিক বৈধতা ও ধারাবাহিকতা: বিএনপির উদ্ভব ও বিকাশকে ‘লড়াই-সংগ্রাম’-এর বর্ণনায় স্থাপন করে দলটিকে রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বয়ানটি জিয়াউর রহমানের ‘রাষ্ট্রনায়ক’ ইমেজ ও দল-প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক রেফারেন্সে বলীয়ান। 

  2. ক্যাডার-মোরাল বুস্টিং: “কখনো মাথা নত করেনি”—এমন বক্তব্য মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মানসিক শক্তি ও সংগঠনিক অনুপ্রেরণা জোগাতে কার্যকর; দীর্ঘ বিরোধী-রাজনীতি, গ্রেপ্তার-নির্যাতনের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে এটি রেজিলিয়েন্স-ন্যারেটিভ শক্ত করে।

  3. আগামী নির্বাচন-রাজনীতির ফ্রেম: তারেক রহমানকে ‘বিনির্মাণ’-এর ধারাবাহিকতায় বসানো এবং পিআর বিতর্কে সরাসরি অস্ত্র না তুলেও জনমতের কোর্টে বিষয়টি ছেড়ে দেওয়া—এ দুটো কৌশল দলকে একইসাথে কঠোর সমর্থক ঘাঁটি ও দ্বিধাগ্রস্ত মধ্যমাঠে সেতুবন্ধন তৈরির সুযোগ দেয়। 

পাশাপাশি, জুলাই সনদ ও নির্বাচন-ব্যবস্থার আইনি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত—যা ভবিষ্যৎ সংবিধান সংশোধন ও ইসি-নির্বাচনী রোডম্যাপকে কেন্দ্র করে আরেক দফা রাজনৈতিক টানাপোড়েন ডেকে আনতে পারে। 


সূত্র (৩)

  1. Bangladesh Nationalist Party – প্রোফাইল ও ইতিহাস, উইকিপিডিয়া। 

  2. ‘July Charter’ বাস্তবায়নপদ্ধতি নিয়ে মতভেদ, প্রথম আলো (ইংরেজি)। 

  3. PR-ভিত্তিক কাঠামো ও দলগুলোর অবস্থান, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড/ডেইলি সান– সংশ্লিষ্ট রিপোর্টসমূহ।


    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
তাজা রোনাম: মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে: নেপথ্যের বাজার বিশ্লেষণমেটা ডিসক্রিপশন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কারণ বিশ্লেষণ।অনলাইন ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং ইরান কেন্দ্রিক চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের নিচেই স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় মানদণ্ডেই তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে কম সূচকে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের শ্লথগতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হতে পারেনি।তেলের দাম না বাড়ার প্রধান অনুঘটকসমূহমধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে বিশ্ব অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক কাজ করছে।চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সার্বিক ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অব্যাহত অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি।দর নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণসমূহজ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দর ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে থাকার নেপথ্যে যেসব প্রধান কারণ রয়েছে:যুক্তরাষ্ট্র ও অপেক-বহির্ভূত দেশের উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও গায়ানার মতো দেশগুলোতে তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।চীনের বাণিজ্যিক মন্দা: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতির হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি।মার্কিন সুদের হার ও সুদের প্রভাব: উচ্চ সুদের হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মন্দার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।এক নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতিবিষয়বিবরণবাজার স্থিতিপ্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেউত্তেজনার অঞ্চলমধ্যপ্রা

রোনাম: মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে: নেপথ্যের বাজার বিশ্লেষণমেটা ডিসক্রিপশন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কারণ বিশ্লেষণ।অনলাইন ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং ইরান কেন্দ্রিক চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের নিচেই স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় মানদণ্ডেই তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে কম সূচকে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের শ্লথগতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হতে পারেনি।তেলের দাম না বাড়ার প্রধান অনুঘটকসমূহমধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে বিশ্ব অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক কাজ করছে।চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সার্বিক ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অব্যাহত অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি।দর নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণসমূহজ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দর ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে থাকার নেপথ্যে যেসব প্রধান কারণ রয়েছে:যুক্তরাষ্ট্র ও অপেক-বহির্ভূত দেশের উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও গায়ানার মতো দেশগুলোতে তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।চীনের বাণিজ্যিক মন্দা: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতির হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি।মার্কিন সুদের হার ও সুদের প্রভাব: উচ্চ সুদের হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মন্দার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।এক নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতিবিষয়বিবরণবাজার স্থিতিপ্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেউত্তেজনার অঞ্চলমধ্যপ্রা

ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency