প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ (আইসিটি–১) জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনের বিরুদ্ধে মূল তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মো. আলমগীরের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপক্ষের ৫৪তম ও সর্বশেষ সাক্ষী। জবানবন্দির শুরুতেই আলমগীর নিজের জব্দ করা ১৭টি ভিডিও ট্রাইব্যুনালের সম্মতিতে উপস্থাপন করেন; শুনানিটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫) দুপুরে সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বেঞ্চে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়; অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ট্রায়াল বোর্ডের এই গঠন আগে থেকেই আইসিটি–১ হিসেবে কার্যকর রয়েছে।
আদালতে প্রদর্শিত ধারাবাহিক ভিডিও–প্রমাণে জুলাই–আগস্টের সহিংসতা, পুলিশি হামলা, আগুন–সন্ত্রাস ও হতাহতের দৃশ্য উঠে আসে। তালিকায় ছিল—
১৪ জুলাই ২০২৪–এর এক সংবাদ সম্মেলনের অংশ, যেখানে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা/নাতিপুতি’ বলে আখ্যায়িত করেন—এ ভিডিওটিও দেখানো হয়।
৫ আগস্ট ২০২৪, যাত্রাবাড়ী–কেন্দ্রিক একটি প্রামাণ্যচিত্র, যেখানে অন্তত ১৯ জন আন্দোলনকারীর গুলিবিদ্ধ হয়ে হতাহতের কথা দেখানো হয় (আদালতে প্রদর্শিত ওই ফিল্মের দাবি)। অন্যদিকে, পৃথক অনুসন্ধানে বিবিসি আই যাত্রাবাড়ীতে ওইদিনের নির্বিচার গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ৫২ জন নিহত হওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করেছে—দুই সংখ্যার এই পার্থক্যও আদালত–পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রংপুর, চানখাঁরপুল, আশুলিয়া–সহ বিভিন্ন স্থানের হামলা–নির্যাতনের ভিডিও ক্লিপ; এসব উপস্থাপনা ও শুনানি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়।
জবানবন্দি–ও শুনানিতে জুলাই–আগস্টে আকাশপথ (হেলিকপ্টার) থেকে গুলি ছোড়া–সংক্রান্ত প্রমাণ উপস্থাপনের কথাও ওঠে এসেছে—এ নিয়ে তদন্ত সংস্থা ও গণমাধ্যমে একাধিক ভিডিও–রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
সাক্ষ্য চলাকালে আদালত–কক্ষে নীরবতা নেমে আসে—ভিডিও–প্রদর্শনী চলার সময় ডকে থাকা রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি মামুনও উপস্থিত ছিলেন। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আইও আলমগীরের জবানবন্দির বাকি অংশ নেওয়া হবে; এরপর যুক্তিতর্কে যাবে মামলাটি বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।
এই মামলায় অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে ১০ জুলাই ২০২৫–এ আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের গঠনতান্ত্রিক/ব্যক্তিগত পরিবর্তন সত্ত্বেও বর্তমানে বিচারপতি গোলাম মোর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত আইসিটি–১–তেই মামলাটি চলছে; সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জাগো নিউজ ২৪: “শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা দেখালেন ১৭ ভিডিও” (প্রকাশিত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫)।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড: “Final witness to testify in July uprising case against Hasina, two others” (আপডেট ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫)।
ঢাকা পোস্ট: “ট্রাইব্যুনালে দেখানো ১৭ ভিডিওতে ফুটে উঠল জুলাই হত্যাযজ্ঞের ভয়াবহ দৃশ্য” (প্রকাশিত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |