“আমরা হয়তো একা, কিন্তু ইতিহাসের সঠিক পাশে”—জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করার কারণ ব্যাখ্যা করলেন এনসিপি নেত্রী তাসনুভা জাবিন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বহুল আলোচিত জুলাই সনদ অবশেষে স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এই চুক্তি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত হয়নি এবং স্বাক্ষরও করেনি।
এই অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে শনিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৫) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনুভা জাবিন।
তাসনুভা জাবিন লিখেছেন,
“আমরা টেবিলের এই পাশে, যে পাশে জনগণ, যে পাশে গণঅভিপ্রায়। আমরা হয়তো একা, কিন্তু আমরা ইতিহাসের সঠিক পাশে।”
তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—জুলাই সনদ নিয়ে এনসিপির অবস্থান কোনো গোপন চুক্তি বা সমঝোতার ভিত্তিতে নয়, বরং নীতিগত ও আদর্শিক অবস্থানের ওপর দাঁড়িয়ে।
তাসনুভা জাবিন তার পোস্টে জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করার কারণগুলো একে একে তুলে ধরেন।
তিনি লেখেন—
“৫ আগস্টের পর বিপ্লবী সরকার গঠন না করা, রাষ্ট্রপতিকে না সরানো, সেনাবাহিনীতে ছাত্রদের বাইরে রাখা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে না করা, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ না করা—এসবই ছিল আমাদের মৌলিক প্রস্তাব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন,
“গুম, খুন, আয়নাঘরসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত সামরিক সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ছাত্র উপদেষ্টাদের ওপর দায় চাপিয়ে পুরোনো প্রশাসনিক কাঠামো টিকিয়ে রাখা হয়েছে। আদালত, গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন—সবখানে পুরোনো বন্দোবস্ত এখনো অটুট।”
তাসনুভা জাবিন বলেন,
“ছাত্রনেতাদের ব্যক্তিগত বক্তব্য, ফেসবুক পোস্ট বা সাধারণ আচরণকেও ফৌজদারি অপরাধের মতো magnify করা হচ্ছে, অথচ রাষ্ট্রযন্ত্রের পুরোনো খুঁটিগুলো অক্ষত। নতুন নেতৃত্বকে বিভাজিত, অভিযুক্ত ও উপহাস করার মধ্য দিয়েই পুরোনো শক্তি নিজেকে পুনর্গঠন করছে।”
তিনি অভিযোগ করেন,
“অনলাইনে এমনভাবে ট্রেন্ড তৈরি করা হচ্ছে যেন নতুন দলগুলোই সমস্যার উৎস, কেউ বি টিম, কেউ সি টিম, কেউ ডি টিম। অথচ পতিত ফ্যাসিস্টদের প্রকৃত দায় ও তাদের প্রশাসনিক নেটওয়ার্ক এখনো বিদ্যমান।”
তাসনুভা জাবিনের পোস্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,
“এনসিপি কোনো গোপন সমীকরণে নেই। আমরা কোনো শর্টকাটের রাজনীতি করি না। আমাদের অবস্থান একদম স্বচ্ছ—আমরা জনগণের পাশে, গণঅভিপ্রায়ের পাশে।”
তিনি এই বার্তাটিকে পুনরাবৃত্তি করে লেখেন,
“আমরা টেবিলের এই পাশে, যে পাশে জনগণ। আমরা হয়তো একা, কিন্তু ইতিহাসের সঠিক পাশে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপির এই অবস্থান জুলাই সনদের রাজনৈতিক ঐক্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাঁক তৈরি করেছে।
যেখানে দেশের প্রায় সব প্রধান রাজনৈতিক দল ও জোট সনদে স্বাক্ষর করেছে, সেখানে এনসিপির অনুপস্থিতি ভবিষ্যতের সাংবিধানিক রূপরেখা ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ভাষায়—
“তাসনুভা জাবিনের বক্তব্যে যে তীব্র আত্মসমালোচনামূলক টোন রয়েছে, তা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন রাজনীতির অভ্যন্তরীণ অস্বচ্ছতাকে তুলে ধরেছে। এটি এনসিপিকে একটি ‘নৈতিক প্রতিপক্ষ’ অবস্থানে দাঁড় করাচ্ছে।”
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নাগরিক, ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ঐক্যবদ্ধ আলোচনার ফলেই ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন হয়।
এতে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব, এবং প্রশাসনিক সংস্কারের রূপরেখা দেওয়া হয়।
১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
তবে এনসিপি ও এসসিপি (সাউথ সিটিজেন্স পার্টি) এ অনুষ্ঠান বর্জন করে।
তাসনুভা জাবিনের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে একটি স্পষ্ট বার্তা—
“রাজনীতি যদি জনগণকেন্দ্রিক না হয়, তবে কোনো চুক্তিই স্থায়ী হয় না।”
এনসিপির এই অবস্থান কেবল জুলাই সনদের বিরোধিতা নয়, বরং রাজনীতির আদর্শিক পুনঃস্থাপনের আহ্বান বলেই বিশ্লেষকদের অভিমত।
বাংলাদেশ প্রতিদিন, “জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করার ব্যাখ্যা তাসনুভা জাবিনের”, ১৮ অক্টোবর ২০২৫।
যুগান্তর, “এনসিপি বলছে—আমরা জনগণের পাশে, ইতিহাসের সঠিক পাশে”, ১৮ অক্টোবর ২০২৫।
প্রথম আলো, “জুলাই সনদ: কারা সই করল, কারা করল না”, ১৮ অক্টোবর ২০২৫।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |