| বঙ্গাব্দ

নগদের সাবেক এমডি তানভীর মিশুকসহ ৭৪ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 18-11-2025 ইং
  • 3461475 বার পঠিত
নগদের সাবেক এমডি তানভীর মিশুকসহ ৭৪ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
ছবির ক্যাপশন: নগদের সাবেক এমডি তানভীর

নগদের সাবেক এমডি তানভীর মিশুকসহ স্বার্থসংশ্লিষ্টদের ৭৪ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ লিমিটেডের সাবেক এমডি তানভীর আহমেদ মিশুক, তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত মোট ৭৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন


সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের আদেশ

মামলার নথি থেকে জানা যায়, সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. শেখ রাসেল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে নগদ লিমিটেড সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পিপি মোস্তফা সারোয়ার মুরাদ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

আবেদনে বলা হয়, নগদ লিমিটেড নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ই-মানি ইস্যু করেছে এবং ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট হিসাব থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও কর্মকর্তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচার করে থাকতে পারে মর্মে অনুমিত হয়েছে।

এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ারের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে শেয়ার হস্তান্তর করে অর্থ পাচারের আশঙ্কাও উল্লেখ করা হয়েছে আবেদনে।


মানিলন্ডারিং ও প্রতারণার অভিযোগে অনুসন্ধান

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব কর্মকাণ্ড মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১٢ (২০১৫ সালের সংশোধনীসহ) অনুযায়ী প্রতারণাদেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারসংক্রান্ত অপরাধের আওতায় পড়ে।

এ কারণে নগদ লিমিটেড সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও প্রতারণা–সম্পর্কিত অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। অনুসন্ধান চলাকালীন সময়ে যাতে সংশ্লিষ্ট অর্থ অন্যত্র স্থানান্তর বা গোপন করা না যায়, সেজন্যই ব্যাংক হিসাবগুলো স্থায়ীভাবে অবরুদ্ধ করার আবেদন জানানো হয়।


অনুসন্ধান চলাকালে অর্থ স্থানান্তর রোধই মূল লক্ষ্য

সিআইডির আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, তদন্ত চলমান অবস্থায় এই হিসাবগুলো সচল থাকলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অর্থ দ্রুত স্থানান্তর বা গায়েব করে ফেলা হতে পারে, যা ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার ও আর্থিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে

ফলে আদালত মনে করেন, অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ রাখা প্রয়োজন।


সামনে কী?

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও তদন্ত কর্তৃপক্ষ এখন এসব হিসাবের লেনদেন বিশ্লেষণ, অর্থের উৎস ও গন্তব্য ট্র্যাকিং এবং সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণে কাজ করবে।

অনুসন্ধান শেষ হলে, পাওয়া তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে মানিলন্ডারিং ও প্রতারণা মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে বলে আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে।


সূত্র

১. ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের নথি
২. সিআইডির অনুসন্ধান আবেদনের সারসংক্ষেপ
৩. আদালত সূত্রে জানা তথ্য

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency