চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ এলডিপি মহাসচিবের: “অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ার নেই”
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের জাতীয় সম্পদ এবং এর মালিক দেশের কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ। সুতরাং রাষ্ট্রের মূল্যবান এই সম্পদ পরিচালনা ও ইজারা দেওয়া কোনোভাবেই অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে হতে পারে না।
রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকালে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর আহসান উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে গণতান্ত্রিক কৃষকদলের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রেদোয়ান আহমেদ অভিযোগ করেন যে, আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক এখতিয়ার নেই। তিনি বলেন,
“জাতীয় সম্পদ জনগণের, ক্ষমতাসীন নির্বাহী কারও ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়। প্রতিযোগিতা ছাড়া কারও হাতে জাতীয় স্থাপনা তুলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন,
“ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হয়েছেন — কিন্তু তিনি দেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করছেন কিনা তা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জাতীয় সম্পদের মালিকানা নিয়ে যদি রাজনৈতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় তাহলে মানুষ তা মেনে নেবে না।”
সাবেক প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন—অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৫ মাসে দৃশ্যমান কোনো সফলতা নেই, বরং দুর্নীতির অভিযোগ ও বিতর্ক বাড়ছে।
তার ভাষায়, “জাতীয় সম্পদ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে লুকিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে জনগণ কখনও ক্ষমা করবে না। দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ খেললে তার জবাবদিহিতা হবেই।”
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে পারলে জনগণের মুখে হাসি ফুটবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক কৃষকদলের আহবায়ক মো. মোরশেদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—
• উপজেলা এলডিপি সভাপতি একেএম সামছুল হক
• কেন্দ্রীয় এলডিপি উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আবুল কাশেম
• উপজেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু তাহের
• সাংগঠনিক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন
এ ছাড়া উপজেলা গণতান্ত্রিক যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে মো. মোরশেদ আলমকে সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক মো. রুহুল আমিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৭১ সদস্যের উপজেলা গণতান্ত্রিক কৃষকদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ড. রেদোয়ান আহমেদের বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক অবস্থান ও জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রশ্নে সংগঠিত বিরোধী কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বিষয়টি উল্লেখযোগ্য—
| সময়কাল | রাজনৈতিক ফোকাস | বর্তমান প্রসঙ্গের মিল |
|---|---|---|
| ১৯৫০–১৯৭১ | অর্থনৈতিক বৈষম্য → জনগণের অধিকার | জাতীয় সম্পদের মালিকানা জনগণের হাতে |
| ১৯৭৫–১৯৯০ | রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি সংকট | ক্ষমতাসীন কর্তৃত্ব বনাম জনগণের দাবি |
| ১৯৯১–২০০৮ | মুক্তবাজার প্রতিযোগিতা ও টেন্ডার স্বচ্ছতা | প্রতিযোগিতাহীন চুক্তি ও ইজারা বিতর্ক |
| ২০০৯–২০২৩ | উন্নয়ন পরিকল্পনা বনাম স্বচ্ছতা বিতর্ক | চট্টগ্রাম বন্দর ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা |
| ২০২৪–২০২৫ | অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচনকাল | সাময়িক সরকার কি বড় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে পারে?—বিতর্কের কেন্দ্র |
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সম্পদ, বন্দর পরিচালনা, আন্তর্জাতিক টেন্ডার ও সরকারি কর্তৃত্বের প্রশ্ন ২০২৫ সালের আসন্ন নির্বাচনে অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিরোধী দলগুলো এখন ভোটারদের কাছে “জাতীয় সম্পদ রক্ষার রাজনীতি”কে সামনে আনছে—এটি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সময়ের নতুন প্রবণতা।
ড. রেদোয়ান আহমেদের বক্তব্য থেকে তিনটি বিষয় স্পষ্ট—
১) জাতীয় সম্পদ রক্ষার কৌশলগত রাজনৈতিক বার্তা
চট্টগ্রাম বন্দর ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা রাজনীতির কেন্দ্রে এসেছে।
২) অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতার সীমা প্রশ্নবিদ্ধ করা
নির্বাচনকালীন সরকারের সিদ্ধান্তের উপর বিরোধী দলগুলো ভোটে প্রভাব তৈরি করতে চাইছে।
৩) বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটকে ক্ষমতায় আনার নির্বাচনি স্লোগান
“পরিবর্তন চাইলে জোটকে সমর্থন করুন” — ধরনের কণ্ঠস্বর স্পষ্ট।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণ : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
১) জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ও বন্দর প্রশাসন সংক্রান্ত সরকারি নথি
২) বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহের সংবাদ ব্রিফিং আর্কাইভ (২০২৪–২০২৫)
৩) South Asian Political Economic Analysis Desk – Election 2025 Mapping
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |