রাষ্ট্রের মানসিকতা না বদলালে সাংবাদিক হয়রানি কমবে না”— মন্তব্য অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সাংবাদিকদের হয়রানি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তার মতে, রাষ্ট্রের মানসিকতা পরিবর্তন না হলে সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধ হবে না এবং এই প্রশ্নে নীতিগত অবস্থান বদলানো জরুরি।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)–এর গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন,
“সাংবাদিকদের জন্য সবধরনের নিবর্তনমূলক আইন বাতিল করতে হবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় যে-ই আসুক না কেন, সাংবাদিকদের ওপর আইন প্রয়োগে সংবেদনশীলতা থাকা দরকার।”
তিনি আরও বলেন—
“সাংবাদিকদের ন্যারেটিভ পরিবর্তন করতে হবে, যেন সাংবাদিকতা ক্ষমতার অংশ হয়ে না যায়; বরং সাংবাদিকরা নিজেদের কণ্ঠস্বর বজায় রাখতে পারেন।”
ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের নতুন সংস্করণ — ডিজিটাল অ্যাক্ট — সম্পর্কে তিনি বলেন,
“রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার ও সাংবাদিকের অধিকার রক্ষায় আইন থাকা দরকার। ভয়ভীতির সংস্কৃতি যেন দেশে আর ফিরে না আসে — সে জন্যই আইন প্রযোজ্য। তবে অপব্যবহার ঠেকাতে কড়া নজরদারি অপরিহার্য।”
অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন—
“আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত — তা যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্ত, মামলা ও হয়রানির সংখ্যা বাড়লে সংবাদমাধ্যম দুর্বল হয়।”
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার, হুমকি ও ডিজিটাল হয়রানির সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিকতা–গবেষক ও আইনবিদরা আলোচনা সভায় অংশ নেন।
বাংলাদেশে সাংবাদিকদের হয়রানি ও আইন–সম্পর্কিত বিতর্ক নতুন নয়।
🔹 ২০১৬–২০২৩ সময়কালে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট অপব্যবহার নিয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর আন্দোলন দেখা যায়
🔹 ২০২৪ সালে আইনটির সংস্কার দাবি আরও তীব্র হয়
🔹 ২০২৫ সালে নতুন ডিজিটাল অ্যাক্ট প্রবর্তন হলেও মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যম–স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে
এ প্রেক্ষাপটে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যকে অংশগ্রহণকারীরা বিচারব্যবস্থার দায়িত্বশীল অবস্থান বলে দেখছেন।
১) সরকারি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের হয়ে কথা বলা ইতিবাচক বার্তা — কিন্তু বাস্তব বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ।
২) আইন বাতিল বনাম আইন সংস্কার — দু’ধারার দাবি বিদ্যমান; সাম্য পাওয়া কঠিন।
৩) নির্বাচনের বছরে সাংবাদিক নিরাপত্তা ইস্যু আরও সংবেদনশীল — রাজনৈতিক চাপ–ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৪) প্রস্তাবিত পথ হলো — হয়রানি বন্ধে রাষ্ট্রীয় মানসিকতা, আইন প্রয়োগ এবং মিডিয়া স্বাধীনতার সমন্বয়।
১) CGS গবেষণা প্রতিবেদন উন্মোচন অনুষ্ঠান
২) অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনবিদদের বক্তব্য (অনুষ্ঠানসংশ্লিষ্ট)
৩) ডিজিটাল অ্যাক্ট — সরকারি নীতিমালা ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |