প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনীমূলক মূল্যায়ন পদ্ধতির বিষয়ে বুধবার (২৬ নভেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মিলনায়তনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই সেমিনারে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার সুকান্ত সাহার উদ্ভাবিত ‘শান্তিগঞ্জ মডেল’ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। এই মডেলটিকে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। এছাড়া শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এতে সভাপতিত্ব করেন।
'শান্তিগঞ্জ মডেল' এমন একটি সৃজনশীল পদ্ধতি যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করা এবং শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করার বিষয়ে সাফল্য লাভ করেছে। এই মডেলের মাধ্যমে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষকদেরও পরোক্ষভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
এই বিশেষ মানোন্নয়ন পরীক্ষা এবং র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা সুনামগঞ্জে একটি ইতিবাচক প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করেছে। এর ফলে:
শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।
পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাসহ ঝরে পড়ার হার রোধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
‘শান্তিগঞ্জ মডেল’-এর ভূয়সী প্রশংসা করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, "সুনামগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে গৃহীত এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। পরীক্ষার ভিত্তিতে স্কুল ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা সত্যিই এক ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা।"
তিনি মনে করেন, সারা দেশে এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হলে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার তার বক্তব্যে শিক্ষার মানোন্নয়নে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শিক্ষার মান নিয়ে যে উদ্বেগ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান, তা কাটাতে বাস্তবসম্মত ও নির্মোহ মূল্যায়ন ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার বিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৫০-এর দশকে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রবেশগম্যতা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে (১৯৭৩ সালে) প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করা হয়, যা শিক্ষায় একটি বড় পরিবর্তন আনে। ২০০০ সালের পর ঝরে পড়ার হার রোধ এবং নারী শিক্ষায় ব্যাপক উন্নতি হলেও, শিক্ষার মান সবসময়ই একটি উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে থেকেছে।
২০২৫ সালের এই সময়ে এসে যখন সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে, তখন 'শান্তিগঞ্জ মডেল'-এর মতো উদ্ভাবনী মূল্যায়ন পদ্ধতিগুলো নির্দেশ করে যে, শিক্ষকদের জবাবদিহিতা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো সম্ভব। গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীও এই ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের প্রদত্ত বক্তব্য।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা সংক্রান্ত পরিসংখ্যান।
বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত শিক্ষাবিদদের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |