দুর্নীতি, দুঃশাসন ও দখলদারিত্ব থাকবে না: ৩০০ আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা নুরুল হক নুরের; খালেদা জিয়ার প্রেক্ষাপটে তফসিল পেছানোর বিষয়টি ইসি দেখবে
প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আগামীর বাংলাদেশে কোনো ধরনের দুর্নীতি, দুঃশাসন আর দখলদারিত্ব থাকবে না বলে জোরালো মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, যদি অন্য দলগুলোর সঙ্গে কোনো সমঝোতায় আসা সম্ভব না হয়, তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল সারা দেশে এককভাবে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গণঅধিকার পরিষদ উপজেলা শাখার আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনতার উপস্থিতিতে নুরুল হক নুর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের জন্য স্থানীয় নেতা নজরুল ইসলামকে (নজু) ‘ট্রাক’ প্রতীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন।
নুরুল হক নুরের বক্তব্য: "আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে পরিপূর্ণ ইমেজের নেতাদের খুঁজে বের করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা মনোনীত করছি। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম একজন। আপনারা তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন বলে আশাবাদী।"
তিনি জানান, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হোক বা এপ্রিলে, তাদের প্রস্তুতি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার।
নির্বাচনি প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নুরুল হক নুর সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অসুস্থতার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে যদি তফশিল পেছানোর প্রেক্ষাপট তৈরি হয়, সেটা নির্বাচন কমিশন দেখবে।" এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিলেও, তার দল নির্বাচনের প্রস্তুতি থেকে সরে আসেনি—সেই বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদ সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। সমাবেশে নবীনগর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান সভাপতিত্ব করেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে (১৯৫০-২০২৫) ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উত্থানের নজির রয়েছে। নুরুল হক নুরের মতো ডাকসুর সাবেক ভিপির নেতৃত্বে একটি নতুন দলের ৩০০ আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা সেই ঐতিহাসিক ধারারই অংশ।
দখলদারিত্বের রাজনীতি: স্বাধীনতার পর থেকে দেশের রাজনীতিতে দুর্নীতি, দুঃশাসন এবং ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য দখলদারিত্বের অভিযোগ উঠেছে বহুবার। নুর এই তিনটি বিষয়কে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা তার দলের মূল এজেন্ডাকে প্রতিফলিত করে।
গণঅভ্যুত্থানের ফসল: গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তাতে নুরুল হক নুরের মতো তরুণ নেতৃত্ব সামনে আসার সুযোগ পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তার দলের ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা প্রমাণ করে যে, তারা দেশের ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর বাইরে একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে প্রস্তুত।
নুরুল হক নুরের এই ঘোষণা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ে একটি নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে প্রথাগত দলগুলোর পাশাপাশি তরুণ ও নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে।
সূত্র ও বিশ্লেষণ
সূত্র: ১. গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত গণসমাবেশ, নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ (৬ ডিসেম্বর, ২০২৫)। ২. গণঅধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি নুরুল হক নুরের বক্তব্য। ৩. গণঅধিকার পরিষদ সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের বক্তব্য।
বিশ্লেষণ প্রতিবেদন কারির নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিশ্লেষণ: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে (১৯৫০-২০২৫) তরুণ নেতৃত্বের আত্মবিশ্বাসী উত্থানকে নির্দেশ করে। দুর্নীতি, দুঃশাসন ও দখলদারিত্বমুক্ত বাংলাদেশের যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, তা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রত্যাশারই প্রতিফলন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে তার মন্তব্য প্রমাণ করে যে, দলটি সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সচেতন। এককভাবে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা নতুন দল হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাই এবং ভোটারদের সামনে একটি বিকল্প হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার একটি কৌশল।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |