রক্তপাত ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার ঘরে তালা লাগিয়ে অগ্নিসংযোগ এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু আয়শা আক্তারকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। রোববার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) রাত সাড়ে ১০টায় লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা প্রদান শেষে আয়োজিত এক সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। ১৯৫০-এর দশকের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতির বিবর্তন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বারবার সাধারণ মানুষের জানমালকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির অধিকার হরণে গুলি ও নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছিল। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তীতে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষ অকাতরে প্রাণ দিয়েছে। তবে স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বারবার বিঘ্নিত হয়েছে। ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন এবং ১৯৮০-এর দশকে স্বৈরাচারী শাসনের সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া হতো। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরে এলেও প্রতিহিংসার রাজনীতি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
আওয়ামী লীগের গত ১৫ বছরের শাসনকালকে রুহুল কবির রিজভী 'মৃত্যুপুরী' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শেখ হাসিনার মতো 'ভয়ঙ্কর দানবী' বিতাড়িত হলেও তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। ২০২৪ সালের সেই রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালে এসে বাংলাদেশ এখন এক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পরাজিত শক্তির 'সুতার টানে' দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং তার শিশু কন্যা আয়শাকে হত্যার ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে নৃশংস ঘটনাগুলোর একটি। রুহুল কবির রিজভী এই ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতাকে 'রহস্যজনক' বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আগে অপরাধ করার কয়েকদিনের মধ্যে খুনিরা ধরা পড়ত, এখন কেন ধরা পড়ছে না? আপনাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে খুনিরা পার পেয়ে গেলে দেশে অন্ধকার নেমে আসবে।"
চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাকে গুলি এবং ঢাকার তরুণ ছাত্র নেতা ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনাগুলো একই সূত্রে গাঁথা বলে মনে করেন রিজভী। তার মতে, একটি নির্দিষ্ট মহল লুটপাট ও অর্থ পাচার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো দুষ্কৃতিকারী যেন আর গ্রামে গ্রামে আগুন দিতে না পারে, সেজন্য বিএনপি 'হিমালয় পর্বতের মতো' জনগণের পাশে থাকবে।
এদিন রিজভী অগ্নিদগ্ধ বেলাল হোসেনকে দেখতে হাসপাতালে যান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য চার লাখ টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে যে রক্তপাত হয়েছে, তা বন্ধ করতে হলে ২০২৫ সালের এই সন্ধিক্ষণে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সুত্রসমূহ: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন (রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য ও লক্ষ্মীপুর অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবেদন)। ২. বিএনপি মিডিয়া সেল (তারেক রহমানের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা ও পুনর্বাসন সংবাদ)। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও দায়েরি: ১৯৫০-২০২৫ (গুগল এনালাইসিস ও ঐতিহাসিক আর্কাইভ)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |