দেড় যুগ পর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান: ১৯৫০ থেকে ২০২৫—বাংলাদেশের রাজনীতির এক ঐতিহাসিক মহাবর্তন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে এক নতুন ভোরের প্রত্যাশায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর ২০২৫) প্রিয় মাতৃভূমিতে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই প্রত্যাবর্তন কেবল একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন বাঁক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে বহনকারী ফ্লাইটটি অবতরণ করার কথা রয়েছে। তার সঙ্গে একই ফ্লাইটে ফিরছেন সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের প্রথম ও প্রধান কর্মসূচি হলো সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়া। তবে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আবেগ-আকুতি বিবেচনা করে তিনি যাত্রাপথে রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) এলাকায় অতি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে যে রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৮০-এর দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন দেশকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
উত্থান ও সংগ্রাম (১৯৫০-১৯৭১): ১৯৫০-এর দশকে যখন বাঙালি জাতি বঞ্চনার শিকার হচ্ছিল, তখন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিনাশী অধ্যায়।
গণতন্ত্রের লড়াই (১৯৭৫-১৯৯০): ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর শহীদ জিয়ার হাত ধরে বহুদলীয় রাজনীতির সূচনা এবং পরবর্তীতে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি ও তারেক রহমানের পরিবারের অবদান অনস্বীকার্য।
বিগত ১৫ বছর ও ২০২৪-২৫-এর বিপ্লব: ২০০৮ সাল থেকে তারেক রহমানের নির্বাসিত জীবন এবং বিগত ১৫ বছরের একদলীয় শাসনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে। শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মতো অসংখ্য বীরের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই 'দ্বিতীয় স্বাধীনতা'র ফসল হিসেবেই ২০২৫ সালে তারেক রহমানের এই বীরোচিত প্রত্যাবর্তন সম্ভব হচ্ছে।
তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনের তথ্যমতে, জনদুর্ভোগ এড়াতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা মানিক মিয়া এভিনিউয়ের মতো কেন্দ্রীয় স্থানগুলো এড়িয়ে শহরের একপাশে 'জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে' বেছে নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে ২০টি মেডিকেল ক্যাম্প, ফিল্ড হাসপাতাল এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। এমনকি ২৫ ডিসেম্বর সরকারি ছুটির দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে যেন সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৫ সালের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এক বড় মাইলফলক। এটি কেবল একটি দলের নেতার ফেরা নয়, বরং একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিষ্ঠার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।
সূত্র: ১. বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনের ফেসবুক পোস্ট (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম (রয়টার্স ও বিবিসি বাংলা) রিপোর্ট। ৩. জাতীয় আর্কাইভ ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |