| বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের ঐতিহাসিক মহাপ্রত্যাবর্তন ২০২৫: ১৯৫০ থেকে ২০২৫-এর রাজনৈতিক বিবর্তন।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-12-2025 ইং
  • 4465199 বার পঠিত
তারেক রহমানের ঐতিহাসিক মহাপ্রত্যাবর্তন ২০২৫: ১৯৫০ থেকে ২০২৫-এর রাজনৈতিক বিবর্তন।
ছবির ক্যাপশন: তারেক রহমান

তারেক রহমানের ঐতিহাসিক মহাপ্রত্যাবর্তন: ১৯৫০-এর স্বায়ত্তশাসন থেকে ২০২৫-এর রাষ্ট্র সংস্কারের পূর্ণাঙ্গ চালচিত্র

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান থেকে নেমে তিনি জুতো খুলে খালি পায়ে দেশের মাটিতে প্রথম কদম রাখেন এবং একমুঠো মাটি হাতে নিয়ে দেশের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন কেবল একজন নেতার ঘরে ফেরা নয়, বরং এর মধ্য দিয়ে ১৯৫০-এর দশকে শুরু হওয়া বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামের একটি আধুনিক রূপান্তর লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: ইতিহাসের এক নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে বাঙালির যে স্বায়ত্তশাসনের লড়াই শুরু হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ—এই পুরো সময়কাল ছিল স্বৈরাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিরোধের গল্প। ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পর ২০২৫-এর এই মাহেন্দ্রক্ষণে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে বিশ্লেষকরা ১৯৫০-এর সেই অধিকার আদায়ের চেতনারই একটি নবজাগরণ হিসেবে দেখছেন। ১৯৫০-এর দশকে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বা মওলানা ভাসানী যেভাবে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে রাজনীতি করতেন, তারেক রহমানও ২০০২-২০০৬ সালে 'তৃণমূল সম্মেলন' এর মাধ্যমে সেই ধারার পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছিলেন।

৩০০ ফিট সড়কে বাঁধভাঙা জোয়ার ও গণসংহতি তারেক রহমানকে বরণ করতে রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়ক (যা বর্তমানে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে নামেও পরিচিত) এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা—কুমিল্লা, সিলেট, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর থেকে আসা লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠে ছিল 'লিডার আসছে' স্লোগান। বাগেরহাট থেকে ১৫০টি বাস, সাতক্ষীরা থেকে ২০ হাজার এবং বরগুনা থেকে প্রায় ৫০ হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। নেতাকর্মীদের অদম্য উৎসাহ এতটাই তীব্র ছিল যে, অনেকে চার-পাঁচ দিন আগেই ঢাকায় এসে অবস্থান নেন। এই সংহতি প্রমাণ করে যে, ১৯৫০-এর দশকের মতো তৃণমূলের রাজনীতি আজও বাংলাদেশের ক্ষমতার মূল চালিকাশক্তি।

ভার্চুয়াল নেতৃত্ব থেকে সরাসরি হাল ধরা ২০১৮ সাল থেকে প্রবাসে থাকলেও তারেক রহমান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। তবে ২০২৫-এর ২৫ ডিসেম্বর তিনি সরাসরি রাজপথে উপস্থিত হয়ে প্রমাণ করলেন যে, রাজপথের নেতৃত্বই গণতন্ত্রের আসল ভিত্তি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সেখান থেকে তিনি সরাসরি ৩০০ ফিট সড়কের বিশাল সংবর্ধনা মঞ্চের দিকে লাল-সবুজ রঙের বাসে চড়ে রওনা হন। পথে কয়েক লাখ মানুষ তাকে অভিবাদন জানান।

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ও নতুন বাংলাদেশের ভিশন তারেক রহমানের রাজনীতি কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের একটি তাত্ত্বিক ভিত্তি। তিনি তার প্রস্তাবিত '৩১ দফা' সংস্কারের মাধ্যমে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য এবং টানা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধানের কথা বলেছেন। তিনি বারবার বলছেন, "বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, এটি সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের।" তার এই চিন্তা ১৯৫০-এর সেই অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দর্শনেরই এক আধুনিক ডিজিটাল সংস্করণ।

ড. ইউনূসের সঙ্গে ফোনালাপ ও পরবর্তী কর্মসূচি দেশে ফেরার পরপরই তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের নিরাপত্তা ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে তার অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর মা ও ছেলের এই মিলন এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

উপসংহার ও বিশ্লেষণ ১৯৫০-এর স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রাম যেমন একটি জাতিকে স্বাধীনতা দিয়েছিল, তারেক রহমানের ২০২৫-এর এই 'মহাপ্রত্যাবর্তন' তেমনি একটি স্মার্ট, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। দীর্ঘ নির্বাসন, কারাবরণ এবং শারীরিক নির্যাতন তাকে আরও পরিপক্ব নেতায় পরিণত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই প্রত্যাবর্তন কেবল বিএনপির জন্য নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক বড় পরিবর্তনের হাওয়া।


সূত্র: ১. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বশেষ প্রেস রিলিজ (২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫)। ২. বিবিসি বাংলা ও জাগোনিউজ২৪-এর বিশেষ লাইভ কভারেজ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক এম. এ. সালাম ও ড. মির্জা গালিবের পর্যালোচনা। ৩. বিএনপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (bnpbd.org) ও তারেক রহমানের প্রস্তাবিত '৩১ দফা' রাষ্ট্র সংস্কার রূপরেখা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency