| বঙ্গাব্দ

নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে: বিশ্বনেতাদের ইতিহাস ও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-12-2025 ইং
  • 2016965 বার পঠিত
নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে: বিশ্বনেতাদের ইতিহাস ও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন
ছবির ক্যাপশন: বিশ্বনেতাদের ইতিহাস ও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন

নির্বাসন থেকে রাষ্ট্রনায়ক: বিশ্বনেতাদের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ও বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: ইতিহাস সাক্ষী দেয়, রাজনৈতিক নিপীড়ন, দীর্ঘ কারাবাস কিংবা নির্বাসন কখনো জননেতাদের পথ রুদ্ধ করতে পারে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে এই কঠিন সময়গুলোই একজন নেতাকে আরও পরিণত এবং জনগণের কাছে আরও প্রিয় করে তোলে। ১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বারবার কারাবরণ তাকে জাতির পিতায় রূপান্তরিত করেছিল, তেমনি ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে বিশ্বরাজনীতির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব ইতিহাসের চার মহানায়কের প্রত্যাবর্তন

ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে আমরা এমন চারজন বিশ্বনেতাকে পাই, যারা নির্বাসন বা কারাগার থেকে ফিরে এসে নিজ দেশের ভাগ্য বদলে দিয়েছিলেন:

১. বেনজির ভুট্টো (পাকিস্তান): আশির দশকে জেনারেল জিয়াউল হকের সামরিক শাসনের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। নির্বাসনে থেকেও দলের নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৮৮ সালে দেশে ফিরে মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন।

২. রুহুল্লাহ খোমেনি (ইরান): দীর্ঘ ১৫ বছর তুরস্ক, ইরাক ও ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। ১৯৭৯ সালে ইরানে ফিরে তিনি ইসলামী বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন এবং আধুনিক ইরানের রূপকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

৩. ভ্লাদিমির লেনিন (রাশিয়া): জার শাসনামলে বারবার নির্বাসিত হয়েও তিনি দমে যাননি। ১৯১৭ সালে ইউরোপ থেকে ফিরে বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভিত্তি স্থাপন করেন।

৪. নেলসন ম্যান্ডেলা (দক্ষিণ আফ্রিকা): টানা ২৭ বছর কারাবরণ করেও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়ার পর ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বর্ণবাদের অবসান ঘটান।

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট: ১৯৫০ থেকে ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ১৯৫০-এর স্বায়ত্তশাসনের দাবি থেকে শুরু করে আজকের রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনে এসে ঠেকেছে। ১৯৫০-এর দশকে বাঙালি লড়াই করেছিল শোষণের বিরুদ্ধে, আর ২০২৪-২৫ সালে লড়াই করছে একটি স্মার্ট ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য।

২৫ ডিসেম্বর ২০২৫-এ তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ম্যান্ডেলা বা ভুট্টোর প্রত্যাবর্তনের সাথে তুলনা করছেন অনেকেই। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও নিপীড়ন তাকে একজন ধৈর্যশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে পরিণত করেছে। তার প্রস্তাবিত ‘৩১ দফা’ রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনা ১৯৫০-এর সেই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষারই একটি আধুনিক রূপ। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, লেনিন বা ম্যান্ডেলার মতোই দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং সঠিক রাজনৈতিক দর্শনই একটি জাতিকে সংকট থেকে মুক্ত করতে পারে।

উপসংহার ও বিশ্লেষণ

বিশ্বনেতাদের ইতিহাসের সাথে তারেক রহমানের এই মিল নির্দেশ করে যে, রাজনৈতিক সংগ্রাম কখনো বৃথা যায় না। ১৯৫০-এর স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন যেমন ১৯৭১-এ স্বাধীনতা এনেছিল, ২০২৫-এর এই ঐতিহাসিক মহাপ্রত্যাবর্তন তেমনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।


সূত্র: ১. এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা: হিস্টোরি অফ পলিটিক্যাল এক্সাইল (Mandela, Lenin, Bhutto). ২. যুগান্তর ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম (আল জাজিরা, বিবিসি) বিশেষ প্রতিবেদন (২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫)। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও গুগল হিস্টোরিক্যাল ডাটাবেজ (১৯৫০-২০২৫)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency