ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর: গণতন্ত্র ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রশ্নে আপসহীন কেএসজেএল
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (কেএসজেএল)। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকালে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন ২০২৫ সালের শেষে এসে দেশ একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ একটি গণতান্ত্রিক এবং নির্বাচনমুখী দল। দলটির জন্মই হয়েছিল অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা নিয়ে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলটি মনে করছে, এখনো অনেককে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচনের কোনো স্বতঃস্ফূর্ত উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেখানে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত নয়, সেখানে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আশা করা যায় না। এই 'তথাকথিত' নির্বাচনে অংশ না নিয়ে গণতান্ত্রিক নৈতিকতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে দলটি।
বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বুঝতে হলে ১৯৫০-এর দশকের সেই উত্তাল সময়কে স্মরণ করতে হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম সোপান। এরপর ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ১৯৬৬-র ছয় দফা ছিল পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ। ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয় এবং পরবর্তীতে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল এই ইতিহাসের চূড়ান্ত পর্যায়।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম নিজেই এই ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ১৯৭১ সালে তিনি 'কাদেরিয়া বাহিনী' গঠন করে টাঙ্গাইল ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন। স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতি অনেক চড়াই-উতরাই পার করেছে। ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের গণবিপ্লব প্রমাণ করেছে যে, এদেশের মানুষ সবসময় একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে থাকে।
২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, তখন বঙ্গবীরের দলের এই বর্জন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এটি নির্দেশ করে যে, ২০২৪-এর সংস্কার পরবর্তী বাংলাদেশে এখনো সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি সফল আন্দোলনের মূলে ছিল ‘ভোটাধিকার’ ও ‘গণতন্ত্র’। ১৯৫০-এর দশকে যে লড়াই শুরু হয়েছিল শোষণের বিরুদ্ধে, ২০২৫ সালে এসে সেই লড়াই এখন ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের’ লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। কাদের সিদ্দিকীর দলের এই সিদ্ধান্ত অন্যান্য ছোট ও মেজরিটির বাইরের দলগুলোর মধ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বক্তারা বিভিন্ন সভা-সেমিনারে গত কয়েক মাস ধরেই বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হয়েছে, সেখানে যদি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত না হয়, তবে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন কঠিন হবে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বর্জন সেই আশঙ্কারই একটি প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।
বাংলাদেশের ইতিহাস লড়াইয়ের ইতিহাস। ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত প্রতিটি বাঁকে এদেশের মানুষ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি প্রকৃত অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চায়। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর দল সেই ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা থেকেই নির্বাচন বর্জনের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
সূত্র: ১. কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (কেএসজেএল) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তি (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন: ১৯৫২-২০২৪ (জাতীয় আর্কাইভ ও ঐতিহাসিক দলিলাদি)। ৩. সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও জাতীয় দৈনিক সমূহের প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |