প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন বাঁকবদলের সাক্ষী হলো দেশ। জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রপথিক এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফল সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন নবগঠিত রাজনৈতিক দল 'জাতীয় নাগরিক পার্টি'তে (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আজ সোমবার এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। শুধু যোগদানই নয়, আসিফ মাহমুদকে দলটির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত 'নির্বাচন পরিচালনা কমিটি'র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আসিফ মাহমুদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম কাণ্ডারি। রাজপথের লড়াই থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রাথমিক ধাপে তিনি যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা অতুলনীয়। আজ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিলেন। আমরা বিশ্বাস করি, একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা লড়াই করেছি, তা বাস্তবায়নে তিনি দলটির অন্যতম শক্তি হিসেবে কাজ করবেন।’
উল্লেখ্য যে, আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচনের জন্য পূর্বে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও বর্তমান সিদ্ধান্তে তিনি সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। পরিবর্তে, তিনি দলের নির্বাচনী কৌশল ও প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেবেন।
আসিফ মাহমুদ ও নাহিদ ইসলামের এই রাজনৈতিক পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা ১৯৫০-এর দশকের ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী রাজনৈতিক মেরুকরণের সঙ্গে তুলনা করছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি বড় পরিবর্তনের মূলে ছিল তরুণ নেতৃত্ব।
১৯৫০-১৯৫২ (ভাষা আন্দোলন): ১৯৫০ সাল থেকে শুরু হওয়া ভাষা আন্দোলনের যে প্রেক্ষাপট, সেখান থেকেই মূলত এদেশের ছাত্ররাজনীতির বিজয় সূচিত হয়। ১৯৫২-এর ২১শে ফেব্রুয়ারি রফিক, শফিক, জব্বারদের রক্তদান যেভাবে মুসলিম লীগের মতো শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল, ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব একইভাবে প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
১৯৬৯ ও ১৯৭১: ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তোফায়েল আহমেদের মতো ছাত্রনেতারা যেভাবে আইয়ুব খানের পতন ঘটিয়েছিলেন, আসিফ মাহমুদদের এনসিপিতে যোগদান সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন। ১৯৭১-এর স্বাধীনতা অর্জনেও ছাত্রনেতৃত্ব ছিল প্রধান চালিকাশক্তি।
১৯৯০-এর স্বৈরাচার পতন: নব্বইয়ের ছাত্র আন্দোলন যেভাবে এরশাদ শাহীর অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়েছিল, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব তার চেয়েও ব্যাপক সংস্কারের ডাক দেয়।
২০২৪ (জুলাই বিপ্লব): জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে আবু সাঈদ, মুগ্ধদের রক্তে রঞ্জিত রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে আসিফ মাহমুদ ও নাহিদ ইসলামরা প্রমাণ করেছেন যে, তরুণরা শুধু প্রতিবাদী নয়, তারা রাষ্ট্র পরিচালনায়ও সক্ষম।
২০২৫-এর রূপান্তর: ২০২৫ সালে এসে দেশের প্রচলিত বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি 'জাতীয় নাগরিক পার্টি' (এনসিপি) একটি বিকল্প তৃতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। আসিফ মাহমুদের মুখপাত্র হওয়া মূলত তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসিফ মাহমুদের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে নির্বাচন কমিটির প্রধান হওয়ার সিদ্ধান্তটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত বলিষ্ঠ। এর মাধ্যমে তিনি দলের স্বচ্ছতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, "আমরা ১৯৫০ সাল থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর গঠন ও ভাঙন দেখেছি। কিন্তু তরুণদের হাত ধরে একটি দল সরাসরি রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নামার ঘটনা এই প্রথম।"
আসিফ মাহমুদ তার বক্তব্যে বলেন, "ব্যক্তিগত পদের চেয়ে রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তন আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এনসিপি কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক দল নয়, এটি জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার ফসল।"
সূত্র: ১. যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ (ডিসেম্বর ২০২৫) ২. জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) প্রেস রিলিজ ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস: ১৯৫০-২০২৫ (গুগল নলেজ প্যানেল ও ঐতিহাসিক আর্কাইভ)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |