| বঙ্গাব্দ

বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ: ১৯৫০-২০২৫ এক নক্ষত্রের রাজনৈতিক পরিক্রমা।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-12-2025 ইং
  • 2866175 বার পঠিত
বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ: ১৯৫০-২০২৫ এক নক্ষত্রের রাজনৈতিক পরিক্রমা।
ছবির ক্যাপশন: পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার

অবসান হলো একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের: বেগম জিয়ার চিরবিদায় ও বিশ্বনেতাদের শোক

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটলো। ১৯৫০-এর দশকে বেড়ে ওঠা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম প্রধান কারিগর, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর এই বিদায় কেবল একটি দলের ক্ষতি নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক বিবর্তনের এক বিশাল অধ্যায়ের সমাপ্তি।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: রাজপথ থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা

১৯৫০ সালের প্রেক্ষাপটে বাঙালির যে রাজনৈতিক অধিকারের লড়াই শুরু হয়েছিল, তার ফলশ্রুতিতে অর্জিত বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার উত্থান ছিল নাটকীয়। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে পর্দার আড়ালে থাকলেও ১৯৮১ সালে জিয়ার মৃত্যুর পর তিনি দলের হাল ধরেন। ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন গণমানুষের নেত্রী। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি ইতিহাস গড়েন।

জানাজায় যোগ দিতে আসছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী

বেগম জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক স্থাপনে তিনি অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন। সেই সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বুধবার ঢাকা আসছেন। ঢাকা পাকিস্তান হাইকমিশন নিশ্চিত করেছে যে, তিনি মরহুমার জানাজায় অংশ নেবেন।

আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।

বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক লিগ্যাসি

গুগল এনালাইসিস ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, বেগম খালেদা জিয়া কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও ছিলেন সমান উজ্জ্বল। তাঁর শাসনামলে তিনি মার্কিন ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার, ভারতের নরেন্দ্র মোদি ও অটল বিহারি বাজপেয়ি এবং চীনের শি জিনপিংয়ের মতো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করেছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ও জনশক্তি রপ্তানিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল।

২০২৫-এর রাজনৈতিক বাস্তবতা ও শোকের আবহ

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালে এসে বাংলাদেশের রাজনীতি যখন এক নতুন সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই বেগম জিয়ার প্রস্থান দেশবাসীকে শোকাতুর করে তুলেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আরিফ সোহেল থেকে শুরু করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু এমন এক সময়ে হলো যখন বাংলাদেশ ১৯৫০-এর সেই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ২০২৫-এর নতুন বাংলাদেশে রূপান্তরের লড়াই করছে। তাঁর এই শূন্যতা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের পথে এক বড় চপেটাঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।


তথ্যসূত্র: ১. এভারকেয়ার হাসপাতাল ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের প্রেস বিজ্ঞপ্তি। ২. পাকিস্তান হাইকমিশন, ঢাকা ও গুগল নিউজ কূটনৈতিক ডেস্ক (ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫)। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রোফাইল (১৯৫০-২০২৫)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency