প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানের শক্তির ওপর ভিত্তি করে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা ও আসন ভাগাভাগির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দলটিতে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন ধস। আজ ৩ জানুয়ারি (শনিবার) পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দলটির অন্তত ১৪ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন, যা নতুন এই রাজনৈতিক শক্তির ভবিষ্যৎকে বড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে এক দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং ২০২৫-২৬ সালের বর্তমান সময়কালটি ছিল 'নতুন ধারার' রাজনীতি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর ১৯৭১ সালের বিতর্কিত ভূমিকা এবং আদর্শিক পার্থক্যের কারণে এনসিপির ভেতর এই জোট গঠনকে 'আত্মঘাতী' হিসেবে দেখছেন দলটির বড় একটি অংশ। পদত্যাগকারী নেতাদের মতে, যে দল শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত হলো, সেই দল পুরোনো ধারার রাজনীতির সঙ্গে আপস করে জুলাই যোদ্ধাদের সাথে 'ভাঁওতাবাজি' করছে।
বৃহস্পতিবার রাতে একরাশ ক্ষোভ ও অভিমান নিয়ে এনসিপি ত্যাগ করেন দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মুখপাত্র মুশফিক উস সালেহীন। তিনি দলটির মিডিয়া সেল এবং পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ উইংয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। একই দিনে পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন। এর আগে ১ জানুয়ারি রাতে পদত্যাগ করেন যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা একজন মেধাবী নীতি নির্ধারক ছিলেন।
মুশফিক উস সালেহীন-এর বক্তব্য: > "এনসিপি যে উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল, সেই জায়গায় দলটি এখন নেই। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করার মাধ্যমে এনসিপি আসলে পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতিতেই ঢুকে পড়ল। নতুন ধারার রাজনীতির যে সম্ভাবনা ছিল, তা এখন আর নেই।"
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা গত ২৮ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। তিনি দলটির অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। আজ ৩ জানুয়ারি সকালে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে স্বাক্ষর জটিলতায়। তার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহর পদত্যাগের পর এনসিপি এখন নারী নেতৃত্ব ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির দিক থেকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
কেন্দ্রীয় নেতাদের পদত্যাগের তালিকা: এখন পর্যন্ত পদত্যাগ করা উল্লেখযোগ্য ১৪ জন নেতা হলেন—তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন, মুশফিক উস সালেহীন, খালেদ সাইফুল্লাহ, খান মো. মুরসালীন, আরিফ সোহেল, ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, আজাদ খান ভাসানী, আসিফ নেহাল, মীর হাবিব আল মানজুর, মারজুক আহমেদ, মীর আরশাদুল হক, ওয়াহিদুজ্জামান ও আল আমিন টুটুল।
দলের আহ্বায়ক ও সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী হলফনামায় দেখানো আয় নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তার বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা এবং মোট ৩২ লাখ টাকার সম্পদ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। যদিও এনসিপির পক্ষ থেকে একে 'বিভ্রান্তি' হিসেবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তবে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং এই বিতর্ক দলটির জৌলুস তলানিতে ঠেকিয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, "আমরা এই দলটির ওপর অনেক প্রত্যাশা রেখেছিলাম। কিন্তু যেভাবে পরিচিত মুখগুলো দল ছাড়ছে, তাতে আমরা আশাহত হচ্ছি।" শহীদ পরিবারের অন্য সদস্যরাও এনসিপির এই 'ভাঙন' এবং জামায়াতের সঙ্গে জোট করাকে আদর্শিক বিচ্যুতি হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: ১. যুগান্তর ও বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন ডেস্ক (০৩ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. ঢাকা ট্রিবিউন ও সমকাল বিশেষ প্রতিবেদন (ডিসেম্বর ২০২৫ - জানুয়ারি ২০২৬)। ৩. এনসিপি কেন্দ্রীয় দপ্তর ও নেতাদের পদত্যাগপত্র।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |