প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশ্ব রাজনীতির দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক হুমকির জবাবে রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি ট্রাম্পের হুমকিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইরান কখনোই কোনো শক্তির কাছে মাথা নত করবে না, বরং শত্রুদেরই ইরানের শক্তির সামনে নতি স্বীকার করতে হবে।
২০২৬ সালের শুরু থেকেই ইরানি মুদ্রার (রিয়াল) নজিরবিহীন দরপতন এবং আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটি। আজ আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়েছে।
হ হতাহত: গত কয়েক দিনের সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৯ জন নিহত হয়েছেন।
গ্রেফতার: বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার অভিযোগে ৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক চিত্র: ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে।
টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে খামেনি স্বীকার করেন যে, অর্থনৈতিক অস্থিরতায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম সংকটে আছেন। তিনি বলেন, "ব্যবসায়ীরা যে বলছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা করা অসম্ভব, তাদের এই অভিযোগ যৌক্তিক। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।" তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জনগণের অধিকার হলেও দাঙ্গাকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বিদেশি শক্তিগুলোর সমালোচনা করে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ সমস্যায় নাক না গলিয়ে তারা যেন নিজেদের চরকায় তেল দেয়। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তার নির্দেশ—শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের কথা শুনতে হবে, কিন্তু যারা বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহিংসতা করছে, তাদের কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ইরানের বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে তেহরানকে একপ্রকার হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই আচরণকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
আরাঘচি এক বিবৃতিতে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রকাশ্য উস্কানি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাই বাড়াবে। ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ‘সর্বোচ্চ সতর্ক’ অবস্থায় রয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের দুঃসাহসিক পদক্ষেপ ইরান সহ্য করবে না এবং এর সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের পর থেকে ইরানের ওপর পশ্চিমা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বারবার হয়েছে। ১৯৫৩ সালের অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব—প্রতিটি মোড়েই ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক ছিল সাপে-নেউলে। ২০২৬ সালের এই বর্তমান সংকট কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে কয়েক দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কৌশলগত সংঘাত। ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি এবং ইরানের ‘প্রতিরোধের রাজনীতি’ এখন এক নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সূত্র: ১. আল জাজিরা ও রয়টার্স - ইরান সংকট বিশেষ প্রতিবেদন (জানুয়ারি ৪, ২০২৬)। ২. ইরানি সংবাদ সংস্থা (ইরনা) - আয়াতুল্লাহ খামেনির ভাষণ। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক ও ভূ-রাজনৈতিক আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |