প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। ঢাকা-৮ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামায় উঠে এসেছে সম্পদের পাহাড় ও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা সমীকরণ। তবে এই নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া এ অঞ্চলের রাজনৈতিক বিবর্তনের ধারায় ২০২৬ সালের এক চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মির্জা আব্বাসের হলফনামা: সম্পদের খতিয়ান সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের ঘোষিত বার্ষিক আয় ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। পেশায় নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিলেও ব্যবসা থেকে কোনো আয় দেখাননি তিনি। তার আয়ের মূল উৎস বাড়িভাড়া, ব্যাংক আমানত এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ।
আয়ের উৎস: বাড়িভাড়া থেকে বছরে ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে ৪ কোটি ৯৩ লাখ ১০ হাজার টাকা আয় করেন তিনি।
অস্থাবর সম্পদ: নিজের নামে ৬৮ কোটি ৬৭ লাখ এবং স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের নামে ৩৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ব্যাংকের ৫১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার মির্জা আব্বাসের নামে এবং ৩১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার তার স্ত্রীর নামে।
মামলা ও শিক্ষা: ১৯৫১ সালে জন্মগ্রহণ করা এই নেতার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মোট ২২টি মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ১৯৫২ বাংলাদেশের রাজনীতির বীজ বপন হয়েছিল বিশ শতকের শুরুতে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯১১ সালে তা রদ করার মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডের মানুষের স্বাধিকার চেতনার উন্মেষ ঘটে। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের পথ ধরে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও বাঙালির মুক্তি মেলেনি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সালাম, বরকত, রফিকের রক্তে রঞ্জিত রাজপথ প্রমাণ করেছিল, এ জাতি মাথা নত করতে জানে না।
স্বাধীনতা থেকে ছাত্র-জনতার ২০২৪: এক দীর্ঘ লড়াই ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক এবং ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত বিজয় ছিল দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। তবে স্বাধীনতার পর থেকে রাজনীতিতে এসেছে বহু চড়াই-উতরাই। ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান—সবই ছিল ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই।
মির্জা আব্বাস তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বারবার বলেছেন, "গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, এটি জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াই।" নব্বইয়ের আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা এবং বর্তমান ২০২৬-এর নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনীতির ধারাবাহিকতারই অংশ।
২০২৬-এর নির্বাচন: কোন পথে বাংলাদেশ? ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সাল জুড়ে চলেছে নানা সংস্কার কার্যক্রম। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। সেই অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভোটগ্রহণের লক্ষে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। মির্জা আব্বাসের মতো প্রবীণ নেতাদের সম্পদের হিসাব ও রাজনৈতিক অবস্থান এখন জনমনে বড় আলোচনার বিষয়।
বিশ্লেষণ: ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী চেতনা থেকে ২০২৬ সালের নির্বাচন—ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দেশের মানুষের প্রধান দাবি সবসময়ই ছিল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। হলফনামায় সম্পদের সঠিক তথ্য প্রদান এবং নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায়ের প্রতিফলনই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মির্জা আব্বাসের বিশাল সম্পদ এবং তার রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য জীবন ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখার জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রকাশিত হলফনামা ডাটাবেজ, ২০২৬। ২. প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ডিজিটাল আর্কাইভ (রাজনৈতিক ইতিহাস ও মির্জা আব্বাসের প্রোফাইল)। ৩. উইকিপিডিয়া ও বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (১৯০০-২০২৬ টাইমলাইন)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |