প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
চকরিয়া (কক্সবাজার): বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে চিরস্মরণীয় উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দীন আহমদ বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তিনি বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রকামী মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিকাল সাড়ে ৪টায় চকরিয়া রামপুর মিছবাহুল উলুম মাদ্রাসায় আয়োজিত খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শোককে শক্তিতে পরিণত করার আহ্বান সালাহউদ্দীন আহমদ বলেন, "সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত সর্ববৃহৎ জানাজা বেগম খালেদা জিয়ার নসিব হয়েছে। এটি এ দেশের মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিফলন। তিনি সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, সন্তান হারিয়েছেন এবং শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মানুষের ভোটের অধিকারের কথা বলেছেন।" তিনি আরও যোগ করেন, এই শোককে কেবল নির্বাচনের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশকে একটি সুদৃঢ় জাতি হিসেবে বিনির্মাণের জন্য স্থায়ী শক্তিতে পরিণত করতে হবে।
মাদ্রাসার প্রধান পরিচালক আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মাতামুহুরি উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হেফাজতুর রহমান টিপুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ১৯৪৭ বাঙালির রাজনৈতিক বিবর্তনের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের তেজ থেকেই এ অঞ্চলের মানুষের স্বাধিকার চেতনার জন্ম। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং পরবর্তীতে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে যে পৃথক ভূখণ্ডের দাবি উঠেছিল, তার মূলে ছিল সাধারণ মানুষের মুক্তি। সেই ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতাতেই ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর শুরু হয় নতুন এক লড়াই।
ভাষা আন্দোলন থেকে ২০২৬: একটি নিরন্তর সংগ্রাম ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালিকে নিজের পরিচয় চিনতে শিখিয়েছিল। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। স্বাধীনতার পর আশির দশকে যখন গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়েছিল, তখন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ ৯ বছরের আপসহীন সংগ্রাম এ দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম দেয়।
সালাহউদ্দীন আহমদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া যে মুক্তির সংগ্রাম, তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০২৫ সাল জুড়ে চলা সংস্কারের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ নির্বাচনকে ঘিরে এখন দেশ এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বেগম জিয়ার প্রয়াণ এই নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে এক গভীর আবেগীয় প্রভাব সৃষ্টি করেছে।
২০২৬-এর রাজনীতি ও সালাহউদ্দীন আহমদের বিশ্লেষণ রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ১২৬ বছরের ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার মতো জনপ্রিয় নারী নেত্রী খুব কমই দেখা গেছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে তার অনুপস্থিতি বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, সালাহউদ্দীন আহমদের মতো নেতারা সেই শূন্যতাকে ‘আবেগী শক্তিতে’ রূপান্তরের চেষ্টা করছেন। ২০২৬-এর এই মাহফিল কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি রাজনৈতিক সংহতির এক নতুন বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উপসংহার বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে। সালাহউদ্দীন আহমদের ভাষায়, যতদিন এ দেশ থাকবে, ততদিন মানুষ তার অবদানকে মূল্যায়ন করবে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘আপসহীন নেত্রী’র স্থান চিরস্থায়ী হয়ে রইল।
সূত্র: ১. কক্সবাজার চকরিয়া থেকে প্রাপ্ত মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন (৫ জানুয়ারি ২০২৬)।
২. বিএনপি কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেল ও সালাহউদ্দীন আহমদের প্রেস নোট।
৩. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও রাজনৈতিক আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |