প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
খাগড়াছড়ি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে বড় ধরণের রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খাগড়াছড়ি জেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব ত্রিপুরার নেতৃত্বে দলটির প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিকালে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা ধানের শীষের পতাকাতলে আশ্রয় নেন।
যোগদানের কারণ: জামায়াত-এনসিপি জোট যোগদান অনুষ্ঠানে বিপ্লব ত্রিপুরা তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠন আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমরা মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক। তাই সজ্ঞানে এবং স্বেচ্ছায় শহীদ জিয়ার আদর্শ ও তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।"
যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, "পাহাড়ের মানুষ শান্তি ও উন্নয়ন চায়। আপনারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।" অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার, যুগ্ম সম্পাদক অনিমেষ চাকমা রিঙ্কুসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ১৯৫২ খাগড়াছড়ি তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষা ও অধিকারের লড়াই শুরু হয়েছিল ১৯০০ সালের ‘চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস রেগুলেশন’ (সিএইচটি ম্যানুয়াল) আইনের মাধ্যমে। ব্রিটিশ আমলে এই আইন পাহাড়ের মানুষের সংস্কৃতি ও ভূমি অধিকারের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছিল। ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের ঢেউ পাহাড়েও লেগেছিল, যা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার রক্ষায় অনুপ্রাণিত করে।
জিয়াউর রহমান ও পার্বত্য শান্তি: ১৯৭৫-২০২৪ ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন করেন, যা পাহাড়ের রাজনীতিতে বিএনপির শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলে। ১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তির আগে ও পরে পাহাড়ের রাজনীতিতে নানা চড়াই-উতরাই এলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পাহাড়েও নতুন রাজনৈতিক দিগন্ত উন্মোচন করে।
২০২৫ সাল জুড়ে সংস্কারের আলোচনার পর ২০২৬-এর নির্বাচনে এখন পাহাড়ের দলগুলোর মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এনসিপির মতো নতুন দলগুলোর সাথে জামায়াতের জোট গঠন পাহাড়ের একটি বড় অংশ মেনে নিতে পারছে না, যার প্রতিফলন আজকের এই গণযোগদান।
২০২৬-এর নির্বাচন: পাহাড়ের নতুন সমীকরণ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসনে ওয়াদুদ ভূঁইয়ার মতো প্রবীণ নেতাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিপ্লব ত্রিপুরার নেতৃত্বে এই ৩ শতাধিক কর্মীর অন্তর্ভুক্তি পাহাড়ের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ পাহাড়ের মানুষ গ্রহণ করতে আগ্রহী নয়।
বিশ্লেষণ: ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের রেগুলেশন থেকে ২০২৬-এর নির্বাচনী মাঠ—পাহাড়ের মানুষ সবসময়ই তাদের নিজস্ব সত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এনসিপির ভাঙন এবং বিএনপির শক্তি বৃদ্ধি খাগড়াছড়ির নির্বাচনী ফলাফলে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: ১. খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি ও এনসিপি ত্যাগী নেতাদের প্রেস কনফারেন্স নোট (৫ জানুয়ারি ২০২৬)।
২. বাংলাদেশের পার্বত্য রাজনৈতিক ইতিহাস (১৯০০-২০২৬) ও সিএইচটি ম্যানুয়াল আর্কাইভ।
৩. প্রথম আলো ও বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন নিউজ আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |