প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রশাসন যেভাবে একটি নির্দিষ্ট দলের দিকে ‘ঝুঁকে’ পড়ছে, তাতে অতীতের মতো আরেকটি ‘পাতানো নির্বাচনের’ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) সকালে রাজধানীতে আমিরের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. তাহের জানান, ইইউ প্রতিনিধিদের স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে জামায়াত একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। কিন্তু বর্তমানে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের ‘আনুগত্য’ এবং একপেশে আচরণ সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এ ধরনের পাতানো নির্বাচন দেশকে আবারও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।” তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত নেতা জানান, তার দল যদি ক্ষমতায় যায়, তবে এককভাবে নয় বরং সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করা হবে। এনসিপিকে ১০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার খবরকে তিনি ‘কাল্পনিক’ বলে উড়িয়ে দেন এবং জানান যে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা শিগগিরই চূড়ান্ত হবে।
বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা দীর্ঘ এক শতাব্দীর চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়েছে:
১৯০০-১৯৪৭ (ব্রিটিশ আমল): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে ১৯৪৬-এর নির্বাচন পর্যন্ত ব্রিটিশ রাজের অধীনে পুলিশ ও প্রশাসন ছিল মূলত আন্দোলনের দমনে নিয়োজিত। তবে সেই সময়ও নির্বাচনি নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠত।
১৯৭১-২০২৪ (স্বাধীনতাপরবর্তী): স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন শাসনামলে প্রশাসনের ‘দলীয়করণ’ একটি স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯১ ও ১৯৯৬-এর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা কিছুটা বজায় থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা বারবার বির্তকিত হয়েছে।
২০২৪-২০২৬ (বর্তমান প্রেক্ষাপট): ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশাসন সংস্কারে হাত দিলেও ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে জামায়াতের মতো দলগুলো এখনো ‘পুরানো ভূত’ দেখছে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া যে রাজনৈতিক বিবর্তন, ২০২৬ সালে এসে তার প্রধান পরীক্ষা হলো—প্রশাসন কোনো দলের প্রতি অনুগত না থেকে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পারে কি না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডা. তাহেরের এই হুঁশিয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনকে একটি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। জামায়াত এবার বড় জোটের নেতৃত্বে থাকায় তাদের প্রতিটি বক্তব্য গুরুত্বের সাথে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। বিশেষ করে ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা এবং প্রশাসনের ভূমিকা আগামীর জাতীয় রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।
বিশ্লেষণ: জামায়াতে ইসলামীর এই শঙ্কা কেবল একটি দলের দাবি নয়, বরং এটি সাধারণ ভোটারদের মনেরও প্রতিফলন হতে পারে। ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা ঔপনিবেশিক মানসিকতার প্রশাসন আজও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে পেরেছে কি না, তার প্রমাণ মিলবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে। ডা. তাহেরের প্রস্তাবিত ‘সমন্বয়মূলক সরকার’ গঠন করার স্বপ্ন যদি বাস্তবে রূপ পায়, তবে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ধারার সূচনা করবে। তবে তার আগে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ করাটাই হবে অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা।
সূত্র: * জামায়াতে ইসলামীর আমিরের রাজনৈতিক কার্যালয়ের ব্রিফিং (৭ জানুয়ারি ২০২৬)।
ইইউ প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকের কার্যবিবরণী।
বাংলাদেশ প্রতিদিন রাজনৈতিক ডেস্ক ও জাতীয় আর্কাইভ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |