| বঙ্গাব্দ

উত্তরার ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মৃত্যু: জামায়াত আমিরের গভীর শোক ও সমবেদনা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-01-2026 ইং
  • 2553835 বার পঠিত
উত্তরার ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মৃত্যু: জামায়াত আমিরের গভীর শোক ও সমবেদনা
ছবির ক্যাপশন: জামায়াত আমির

উত্তরায় আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ২ পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু, জামায়াত আমিরের শোক

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের শিশুসহ ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে ১৮ নম্বর রোডের একটি সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই আগুনের সূত্রপাত হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ভয়াবহতা ও হতাহতের বিবরণ

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৭টা ৫৪ মিনিটে খবর পেয়ে উত্তরা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ধোঁয়ার কারণে ভবনের ভেতর আটকা পড়া বাসিন্দারা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। উদ্ধারকারীরা ১৩ জনকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠালেও শেষ পর্যন্ত দুই পরিবারের ৬ জন মারা যান।

নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিন সদস্য রয়েছেন— কাজী ফজলে রাব্বি (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের ২ বছরের শিশুসন্তান কাজী ফাইয়াজ রিশান। ফজলে রাব্বি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসে এবং আফরোজা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত ছিলেন। অন্য একটি পরিবারের নিহতরা হলেন মো. হারিস (৫২), তার ছেলে মো. রাহাব (১৭) এবং ভাগনি রোদেলা আক্তার (১৪)।

জামায়াত আমিরের শোকবার্তা

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। ইয়া রব! যারা বিদায় নিয়েছেন তাদের জান্নাতবাসী হিসেবে কবুল করুন এবং স্বজনদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক দিন। যারা আহত হয়ে হাসপাতালে লড়ছেন, আল্লাহ তাদের দ্রুত সুস্থতা দান করুন।"

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় রাজনৈতিক নেতাদের সংহতি প্রকাশের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে ব্রিটিশ আমলের দুর্ভিক্ষ হোক কিংবা ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়—জননেতারা সবসময় আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছেন। ১৯৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মওলানা ভাসানীর ত্রাণ তৎপরতা ও সংহতি তৎকালীন পাকিস্তানি সরকারের অবহেলার বিরুদ্ধে বাঙালির রাজনৈতিক চেতনাকে শাণিত করেছিল।

স্বাধীনতার পর ১৯৯০-এর দশক থেকে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত নিমতলী ট্র্যাজেডি, চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ড কিংবা বেইলি রোডের আগুনের মতো প্রতিটি বড় দুর্ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০২৪-২৫ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এখন 'নিরাপদ আবাসন' এবং 'অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত' করার দাবিটি রাজনীতির অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগে নেতাদের এই সংহতি প্রকাশ কেবল শোকবার্তা নয়, বরং এটি নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তার প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।

তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, রান্নাঘরের গ্যাস লাইন কিংবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। উত্তরার এই ঘটনা আবারও রাজধানীর বহুতল ভবনগুলোর অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন তাদের ইশতেহারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নগর নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।


তথ্যসূত্র: ১. ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তর মিডিয়া সেল (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল ও উত্তরা পশ্চিম থানা রিপোর্ট। ৩. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে প্রেরিত শোকবার্তা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency