ঝালকাঠি-১: এনসিপির তালিকায় নেই মাহমুদা মিতু, পাশে দাঁড়ালেন নাহিদ ইসলাম
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে মনোনয়ন পাওয়া বা না পাওয়া একটি প্রথাগত বিষয় হলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকা সংহতি ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার সবসময়ই প্রশংসিত হয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে আজকের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ডামাডোল পর্যন্ত বাংলার রাজনীতিতে বহুবার যোগ্য প্রার্থীদের ত্যাগের বিনিময়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে উঠেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তেমনি এক ঘটনার সাক্ষী হলো জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. মাহমুদা মিতু সম্ভাব্য তালিকা থেকে বাদ পড়লেও তার পাশে দাঁড়িয়ে সাহসের বার্তা দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি, ২০২৬) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ডা. মাহমুদা মিতুর প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার প্রশংসা করে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেন, ডা. মিতু এই প্রজন্মের একজন সাহসী রাজনীতিবিদ এবং জনগণের জন্য রাজনীতির দীর্ঘ লড়াইয়ে তার পথচলা অব্যাহত থাকবে। নাহিদ ইসলাম লেখেন, "রাজনীতি একদিনের বিষয় নয়; এটি ধৈর্য, সাহস ও ত্যাগের দীর্ঘ লড়াই। এনসিপি ডা. মাহমুদা মিতুর মতো নেতৃত্বের জন্য গর্বিত।"
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ বা ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের যাত্রালগ্ন থেকেই তরুণ ও পেশাজীবী শ্রেণির অংশগ্রহণ রাজনীতিকে বেগবান করেছে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন বা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে চিকিৎসকদের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। ২০২৪-২৫ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী 'নতুন বাংলাদেশে' ডা. মাহমুদা মিতুর মতো তরুণ চিকিৎসকদের রাজনীতিতে আসা মূলত বিংশ শতাব্দীর সেই বিপ্লবী চেতনারই আধুনিক রূপ। ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৬-এর নির্বাচনী সংস্কার পর্যন্ত—যোগ্য ও সৎ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা সব সময় অনস্বীকার্য ছিল।
গত ১৫ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোট ২৫৩টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছে। নির্বাচনী সমঝোতা অনুযায়ী, জোটের অন্যতম শরিক হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছে। আসন ভাগাভাগির এই জটিল সমীকরণে ঝালকাঠি-১ আসনটি এনসিপির তালিকার বাইরে থাকায় ডা. মিতু মনোনয়ন বঞ্চিত হন। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন প্রকাশ্য সমর্থন রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্রের কাঠামো সংস্কার ও নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব বিকাশের পরীক্ষা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত বা এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের মতো তরুণরা যেভাবে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের কথা বলছেন, ডা. মিতুর প্রতি নাহিদ ইসলামের এই সমর্থন সেই লক্ষ্যকেই আরও সুদৃঢ় করল। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ যাত্রায় বাংলার মানুষ বারবার প্রমাণ করেছে যে, জনগণের জন্য নিবেদিতপ্রাণ নেতৃত্বই শেষ পর্যন্ত ইতিহাসে টিকে থাকে।
তথ্যসূত্র: ১. নাহিদ ইসলামের অফিসিয়াল ফেসবুক প্রোফাইল ও এনসিপি প্রেস উইং (১৫ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোট ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আসন ঘোষণা রিপোর্ট (১৫ জানুয়ারি, ২০২৬)। ৩. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও ২০২৬ সংসদ নির্বাচন বিষয়ক ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |