ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতিতে ৯৪৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ বরাদ্দ: নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় বড় পদক্ষেপ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি যুগান্তকারী দিন হতে যাচ্ছে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—বাঙালির প্রতিটি লড়াই ছিল ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য। সেই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ (July Charter) বাস্তবায়নে আয়োজিত গণভোট সামনে রেখে দেশের ৯৪৭টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা ভোটকেন্দ্র সংস্কারের জন্য ৬ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী এই বিশেষ বরাদ্দের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে জরাজীর্ণ ভবনগুলোর দরজা-জানালা, লাইট-ফ্যান, স্যানিটারি ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি সংস্কারের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোকে ভোটগ্রহণের উপযোগী করে তোলা হবে।
হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবু ছায়িদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পাবে। এই অর্থ কেবল নির্ধারিত কাজের জন্যই ব্যয় করা যাবে এবং বকেয়া পরিশোধে এটি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতির কাজে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনবে সরকার গঠিত দুটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি।
জেলা ও সিটি কর্পোরেশন পর্যায়: সভাপতিত্ব করবেন সংশ্লিষ্ট জেলার ইইডি-র নির্বাহী প্রকৌশলী।
উপজেলা পর্যায়: সভাপতিত্ব করবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। উভয় কমিটিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের এই কড়া নজরদারি মূলত অতীতের নির্বাচনগুলোর অনিয়ম থেকে শিক্ষণীয় একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলার নির্বাচনী বিবর্তন ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের গঠনের পর থেকে নানা চড়াই-উতরাই পার করেছে। ১৯৪৬-এর প্রাদেশিক নির্বাচন এবং ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যম। তবে স্বাধীনতার পর ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪-এর 'জুলাই বিপ্লব' বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচন কেবল একটি সংসদ নির্বাচন নয়, এটি একই সাথে একটি সাংবিধানিক গণভোট। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই সনদের সংস্কারগুলো জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে এই গণভোটের ডাক দিয়েছেন। ১৯০০ সালের পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এমন দ্বিমুখী গণতান্ত্রিক পরীক্ষা বাংলাদেশে বিরল।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠন এই প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছে।
সুনামগঞ্জে অবহিতকরণ সভায় (১৫ জানুয়ারি): জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, "সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।"
বদিউল আলম মজুমদার (সুজন): তিনি গত ১২ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, "গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হওয়া মানে জুলাই বিপ্লবের চেতনার বাস্তবায়ন।"
নাহিদ ইসলাম (উপদেষ্টা): গত ১৩ জানুয়ারি এক জনসভায় বলেন, "সংস্কারের পক্ষে গণভোটের রায় নতুন বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে।"
সরকারের এই সময়োচিত পদক্ষেপ মূলত ১২ কোটি ৭৬ লাখ ভোটারের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার এক বড় প্রয়াস।
তথ্যসূত্র: ১. শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যয় মঞ্জুরি আদেশ (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচনী প্রস্তুতি নোট। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও ২০২৬ গণভোট সম্পর্কিত ডিজিটাল আর্কাইভ এবং উইকিপিডিয়া।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |