| বঙ্গাব্দ

শফিক রেহমানের ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ ও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আনন্দময় ঘোষণা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-01-2026 ইং
  • 2587575 বার পঠিত
শফিক রেহমানের ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ ও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আনন্দময় ঘোষণা
ছবির ক্যাপশন: শফিক রেহমানের ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ

ট্রাম্পকে শফিক রেহমানের আমন্ত্রণ: ‘নতুন বাংলাদেশ’ ও ২০২৬-এর নির্বাচনের আনন্দময় বার্তা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির বিবর্তন ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পর্যন্ত এক রক্তক্ষয়ী ও আদর্শিক সংগ্রামের ইতিহাস। সেই ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাগরিক শোকসভায় দেশি-বিদেশি রাজনীতির এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন বরেণ্য সাংবাদিক ও ‘যায়যায়দিন’ সম্পাদক শফিক রেহমান। তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেছেন, “এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুগ চলছে। মিস্টার ট্রাম্প আপনি বাংলাদেশে আসেন, আপনাকে দাওয়াত করছি।”

শোকসভায় শফিক রেহমানের বৈশ্বিক ও রাজনৈতিক বার্তা

বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই শোকসভায় শফিক রেহমান তার বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশ এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বিশ্বাস করেন, বেগম খালেদা জিয়া যদি ৭ নভেম্বর চিকিৎসার জন্য বিদেশে না যেতেন, তবে হয়তো তিনি আরও কিছুদিন আমাদের মাঝে থাকতেন। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার আগে এ অনুষ্ঠানের বক্তব্যগুলো অনুধাবন করবেন।”

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে এখানে সমবেত হয়েছি। এখানে একটি বিচ্ছিন্ন সহিংসতা বা গুলিতে যদি কারো কিছু হয়, তবে ১২ তারিখের নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে। কিন্তু আমরা চাই ১২ ফেব্রুয়ারিই যেন ভোট হয়। প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস গ্যারান্টি দিচ্ছেন যে, এবারের নির্বাচন হবে অত্যন্ত আনন্দময় ও উৎসবমুখর।”

ভোটের অধিকার ও অর্থনৈতিক জবাবদিহি

শফিক রেহমান ভোটারদের সচেতন করে দিয়ে বলেন, যখন প্রার্থীরা ভোট চাইতে আসবেন, তখন তাদের প্রশ্ন করতে হবে—চাল, ডাল, চিনির দাম নাগালের মধ্যে থাকবে কি না; আইনশৃঙ্খলা ও আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কি না। ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ২০২৪-এর বিপ্লব—সব লড়াইয়ের মূল লক্ষ্যই ছিল সাধারণ মানুষের এই মৌলিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

উপস্থিত ছিলেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও বিশিষ্টজন

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান ও ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদসহ দেশি-বিদেশি কূটনীতিক ও বিশিষ্ট নাগরিকরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের গঠন এবং ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে যে ভিত্তি পেয়েছিল, তা ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে পূর্ণতা পায়। খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং ১৯৯১ সালে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ এ দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া বাঙালির গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার একটি চূড়ান্ত পরীক্ষা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বিশ্বনেতাকে আমন্ত্রণ জানানো মূলত বাংলাদেশের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন।


তথ্যসূত্র: ১. জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত ‘নাগরিক শোকসভা’র মূল বক্তব্য (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. যায়যায়দিন ও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের বিশেষ রিপোর্ট। ৩. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও ২০২৬ সংসদ নির্বাচন বিষয়ক ঐতিহাসিক ও ডিজিটাল আর্কাইভ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency