| বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নেওয়া জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান: মুশফিকুল ফজল আনসারীর স্মৃতিচারণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 17-01-2026 ইং
  • 2537285 বার পঠিত
খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নেওয়া জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান: মুশফিকুল ফজল আনসারীর স্মৃতিচারণ
ছবির ক্যাপশন: : মুশফিকুল ফজল আনসারী

কফিনটি কাঁধে নেওয়াই ছিল জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া”: বেগম জিয়ার জানাজার স্মৃতি নিয়ে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী

বিশেষ প্রতিবেদন: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের ইতিহাসে গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখটি একটি গভীর শোকের দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এদিন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর জানাজা এবং জিয়ার উদ্যানে দাফন—এই পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক ও শোকাবহ মুহূর্ত।

সম্প্রতি মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুশফিকুল ফজল আনসারী তাঁর ফেসবুক পোস্টে এই মহীয়সী নেত্রীর জানাজার দিনের এক ব্যক্তিগত ও আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন।

১. মক্কা থেকে ঢাকা: এক অলৌকিক সমীকরণ

মুশফিকুল ফজল আনসারী জানান, বেগম জিয়ার মৃত্যুসংবাদ যখন আসে, তখন তিনি পবিত্র মক্কায় অবস্থান করছিলেন। তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, যদি তিনি তখন মেক্সিকোতে থাকতেন, তবে হয়তো শেষবারের মতো নেত্রীকে দেখার বা জানাজায় শরিক হওয়ার সুযোগ পেতেন না। মক্কায় থাকায় তিনি সময়মতো ঢাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হন।

২. জনসমুদ্রের সেই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত

রাষ্ট্রদূত জানান, সংসদ ভবনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাধারণ মানুষের স্রোতের সাথে মিশে পায়ে হেঁটে জানাজার মঞ্চের দিকে রওনা হন। সাথে ছিলেন জেনারেল ফাতমি আহমেদ রুমি ও আরও কয়েকজন। কিন্তু মানুষের প্রচণ্ড চাপে এক পর্যায়ে তিনি সঙ্গীদের হারিয়ে ফেলেন এবং ভিড়ের চাপে নিচে পড়ে যান। সেই প্রতিকূল মুহূর্তে পিজিআর এবং এসএসএফ-এর সদস্যরা তাকে চিনতে পেরে উদ্ধার করে মূল মঞ্চে নিয়ে যান।

৩. আজহারীর উদারতা ও কফিন স্পর্শের সৌভাগ্য

জানাজা শেষে বেগম জিয়ার কফিন কাঁধে নেওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল মুশফিকুর ফজল আনসারীর। কিন্তু ভিড়ের কারণে তিনি সামনে এগুতে পারছিলেন না। সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে তিনি লেখেন:

“ঠিক সেই মুহূর্তে ইসলামিক স্কলার মিজানুর রহমান আজহারী ‘আনসারী ভাই আসেন’ বলে নিজে কিছুটা পেছনে সরে আমাকে কফিনে স্পর্শ করার সুযোগ করে দেন।”

এরপর যুক্তরাজ্যের কামাল উদ্দিন এবং মিয়া নুরউদ্দিন অপুর সহযোগিতায় তিনি পরম শ্রদ্ধায় নেত্রীর কফিনটি কাঁধে তুলে নেওয়ার সেই বিরল ও সম্মানজনক সুযোগ লাভ করেন।

৪. এক মহান নেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

মুশফিকুল ফজল আনসারী তাঁর লেখায় বেগম খালেদা জিয়াকে ‘সংসদীয় গণতন্ত্রের রূপকার’ এবং ‘অর্থনৈতিক প্রগতির নির্মাতা’ হিসেবে অভিহিত করেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর স্মরণে একটি সফল স্মরণসভা আয়োজন করতে পারা এবং ঢাকায় জানাজায় উপস্থিত থাকা—এটিকে তিনি তাঁর জীবনের অন্যতম গৌরব ও তৃপ্তির বিষয় বলে মনে করেন।

উপসংহার

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ছিল সকল মত ও পথের মানুষের এক মহা-মিলনমেলা। মুশফিকুল ফজল আনসারীর এই স্মৃতিচারণ প্রমাণ করে, দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মনে এই নেত্রীর জন্য কতটা গভীর ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা বিদ্যমান ছিল।


তথ্যসূত্র: ১. মুশফিকুল ফজল আনসারীর ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্ট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬। ২. রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম ও এভারকেয়ার হাসপাতাল বুলেটিন: ডিসেম্বর ২০২৫। ৩. বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর বিশেষ সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency