প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ১৯০০ সালের সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আজকের এই মুহূর্ত পর্যন্ত, ব্যালট পেপারের পবিত্রতা রক্ষা করা সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যালট পেপারে অনিয়ম এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল থেকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
রোববার সকাল ১১টায় পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগারগাঁও এলাকায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও করতে জড়ো হন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে তারা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ছাত্রদলের মূল দাবি—ব্যালট পেপারের কারচুপি বন্ধ করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ছাত্রদলকে আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, তারা এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির একটি প্রতিনিধি দল কমিশনের সাথে বৈঠকে বসবেন। রাকিবুল ইসলাম বলেন, "আমরা কমিশনের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছি। তবে তার আগে নিজেদের কৌশল নিয়ে আমরা অভ্যন্তরীণ আলোচনা সেরে নিচ্ছি।"
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ দেশের ছাত্র সমাজ সবসময়ই গণতন্ত্র রক্ষার ঢাল হিসেবে কাজ করেছে।
১৯০০ - ১৯৪৭: ব্রিটিশ শাসনামলে ছাত্ররা ছিল সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রাণশক্তি। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের পর থেকেই এ অঞ্চলে নির্বাচনের মাধ্যমে জনমত প্রকাশের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়।
১৯৫২ - ১৯৭১: ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু যখন বলেন, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম", তখন ছাত্র সমাজই সেই ডাককে গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে দিয়েছিল।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান: ব্যালট ছিনতাই ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালের ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক। নূর হোসেন ও ডা. মিলনের রক্তে সেদিন গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছিল।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব: দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লব বাংলাদেশের রাজনীতিতে 'দ্বিতীয় স্বাধীনতা' নিয়ে আসে। ৫ই আগস্টের পর ৮ই আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব নেয়।
২০২৬ সালটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের পর এখন দেশ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ছাত্রদলের বর্তমান এই অবস্থান কর্মসূচি প্রমাণ করে যে, ২০২৪-এর বিপ্লবের পর রাজনৈতিক দলগুলো এখন তাদের অধিকার আদায়ে অনেক বেশি সচেতন। বিশেষ করে ২০২৫ সাল জুড়ে চলা নির্বাচন কমিশন সংস্কারের সুফল জনগণ ২০২৬ সালের নির্বাচনে দেখতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের উচিত সকল রাজনৈতিক অংশীজনের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করা। অতীতের ১৯০০ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যতবারই জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে, ততবারই ছাত্র সমাজ রাজপথে নেমে এসেছে। ২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা বজায় রাখাই হবে রাষ্ট্রের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: ১. যুগান্তর সংবাদ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ। ২. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস: ১৯০০-২০২৬ (গবেষণা পত্র)। ৩. নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সাম্প্রতিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |