প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এ কথা জানান।
নির্বাচনে বিএনপির অনেক যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও জোটের স্বার্থে এবং সংসদে বহুদলীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে অনেককে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, "বৃহত্তর স্বার্থে এবং পার্লামেন্টে মাল্টিপার্টি রিপ্রেজেন্টেশনের (বহু পার্টির প্রতিনিধিত্ব) জন্য আমরা আমাদের অনেক যোগ্য প্রার্থীকে বঞ্চিত করেছি। তাদের মনে কষ্ট আছে। আমরা ইতিমধ্যে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়েছি এবং তাদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছি।"
তিনি আরও জানান, যারা দলের নির্দেশ অমান্য করে ভোটের মাঠে থেকে গেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই এর মীমাংসা হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের জবাব দেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই সফরের সাথে নির্বাচনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। সালাহউদ্দিন বলেন, "২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা এবং তাদের কবর জিয়ারত করা একটি জাতীয় দায়িত্ব ও জাতির প্রত্যাশা। তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে এই ইচ্ছা পোষণ করছিলেন।"
নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, "এখানে আচরণবিধির কোনো বিষয় নেই। আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব হিসেবে তারেক রহমান যদি শহীদদের শ্রদ্ধা জানান, তবে তা গণঅভ্যুত্থানের মর্যাদাকেই মহিমান্বিত করবে। এই সফরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রশ্নবিদ্ধ না করার জন্য আমরা সবার প্রতি অনুরোধ জানাই।"
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের সূচনালগ্ন থেকেই এ অঞ্চলের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য লড়েছে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছিল, তা রক্ষায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব এক নতুন ইতিহাস গড়েছে।
১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির আপসহীন ভূমিকার পর ২০২৬ সালের এই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও রাষ্ট্র সংস্কারের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ নতুন এক গণতান্ত্রিক ধারায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এই সন্ধিক্ষণে তারেক রহমানের শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো মূলত ২০২৪-এর বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করারই নামান্তর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এবার বিদ্রোহী প্রার্থীদের দমনে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। এর প্রধান কারণ হলো জোটবদ্ধ নির্বাচন এবং সমমনা দলগুলোর সাথে আসন ভাগাভাগি। অন্যদিকে, তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তারেক রহমানের এই সরাসরি সংযোগ ভোটারদের মনে বিএনপির প্রতি আলাদা আবেদন তৈরি করবে।
সূত্র: যুগান্তর, প্রথম আলো, বাসস (BSS), এবং ২২ জানুয়ারি ২০২৬-এর গুলশান কার্যালয়ের প্রেস ব্রিফিং।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |