প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
পঞ্চগড়: “আগামী ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে দেশ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে সামনে এগোবে, নাকি পুনরায় পেছনের দিকে ফিরে যাবে।” শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম।
সারজিস আলম তার বক্তব্যে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানকে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের এই সংগ্রাম কেবল ভোটের জন্য নয়, এটি ২০২৪ সালের লড়াইকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লড়াই। এই লড়াই চাঁদাবাজ, দখলদার এবং মিথ্যা মামলার কারবারিদের বিরুদ্ধে। যারা রাতের আঁধারে মাদক ব্যবসা করে আর দিনের আলোয় ভালো সেজে থাকে, তাদের বয়কট করার সময় এসেছে।”
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু সুযোগসন্ধানী মানুষ মুখে উন্নয়নের কথা বললেও নেপথ্যে দলীয় চাটুকারদের দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পায়তারা করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আল্লাহ স্বাধীনতার পর আমাদের এমন একটি আমানত রক্ষার সুযোগ দিয়েছেন যা আগামী ৫০ বছরে আসবে কি না তা অনিশ্চিত। এই আমানতের খেয়ানত করা যাবে না।”
আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের শক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, “টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—সারা দেশে এখন একটাই ধ্বনি, ১০ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। ইনশাআল্লাহ, এই ঐক্যই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।”
উক্ত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে একটি বেকারমুক্ত এবং সুশাসিত বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম এবং পঞ্চগড়-২ আসনের প্রার্থী মো. সফিউল আলম সুফিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের প্রতিটি রক্তক্ষয়ী পথ পেরিয়ে ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ১৯৭৫ ও ১৯৯০-এর পালাবদলগুলো আমাদের গণতন্ত্রের গুরুত্ব বারবার মনে করিয়ে দেয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বিপ্লব সেই দীর্ঘ সংগ্রামেরই আধুনিক রূপান্তর। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আজ জাতি এমন এক সন্ধিক্ষণে, যেখানে তরুণ নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞ রাজনীতির সমন্বয়ে একটি নতুন সমাজ গড়ার চূড়ান্ত লড়াই চলছে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), স্থানীয় প্রতিবেদন এবং ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী ইশতেহার।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |